চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে (এনসিটি) এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা অচলাবস্থা নিরসনে আবারও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। আজ রোববার রাতে নতুন করে আরও ১৪ জন আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে সাময়িক বহিষ্কারাদেশ জারি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে বন্দরে শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মবিরতিকে কেন্দ্র করে ৫ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। এবারে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের আরও ১৪ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হলো। তবে তা স্বত্বেও কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারী শ্রমিক-কর্মচারীরা।
চট্টগ্রাম বন্দরে এনসিটিতে বিদেশি অপারেটর নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে পুরোপুরি সরে আসা ও আন্দোলনত শ্রমিক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহারের দাবিতে চলমান ধর্মঘট অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ৷
আজ রোববার রাত ৯টার দিকে সংগঠনের দুই সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর এবং ইব্রাহিম খোকন সাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ও বিডা চেয়ারম্যানের আজকের ঘোষণায় তাঁরা ধর্মঘট প্রত্যাহারের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রাক্কালে বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক শ্রমিক কর্মচারীদের বিরুদ্ধে জিডি, বাসা বরাদ্দ বাতিল, ৫ কর্মচারীকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। এই অবস্থায় তারা চলমান কর্মসূচি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ যত দ্রুত দমনমূলক অবস্থান থেকে ফেরত আসবেন, তত দ্রুত আন্দোলন স্থগিতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে বন্দর এলাকা থেকে গ্রেপ্তারকৃত ৫ কর্মচারীর বিরুদ্ধে বন্দর কর্তৃপক্ষ সুনির্দিষ্ট মামলা না করায় তাদেরকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে জানা গেছে৷ তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ।
উল্লেখ্য, শনিবার বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে বিদেশি অপারেটর নিয়োগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারসহ চার দাবি পূরণে বৃহস্পতিবার উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনায় আশ্বস্ত হয়েছিলেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। ফলে কর্মসূচি কিছুটা শিথিল করা হয়। তবে এ বিষয়ে সরকারের কোনো ফলপ্রসূ সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ায় আবারও আন্দোলনে নেমেছেন তাঁরা।



