রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভর করছে আগামী সরকারের অর্থনৈতিক অবস্থান। অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, বিনিয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ ও নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে নির্বাচিত সরকারকে জোর দিতে হবে। প্রথম দিন থেকেই ১০০ দিনের অর্থনৈতিক কর্মসূচি হাতে নেওয়ার আহ্বান জানান তারা। তবে দুর্নীতির লাগাম টানা না গেলে, সব চেষ্টা ব্যর্থ হতে পারে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।
চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপণ্যের দামে দিশেহারা সাধারণ মানুষ। রাজস্ব ঘাটতি, বিনিয়োগ সংকটে দেশের অর্থনীতি এখন কঠিন পরীক্ষায়।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এমন বাস্তবতায় নতুন সরকারকে ক্ষমতায় আসতে হবে। নিতে হবে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ। নতুন সরকারের ঘাড়ে চাপানো সরকারি চাকরিজীবিদেন বেতন বাড়ানোর সুপারিশ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আয় বাড়ানো, বিনিয়োগ ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির পাশাপাশি জোর দিতে হবে কর্মসংস্থানে।
পাহাড়সম খেলাপি ঋণ আর তারল্য সংকটে আস্থাহীন ব্যাংক খাত। পুঁজিবাজার ও ব্যাংক খাতে সংস্কার ছাড়া বিনিয়োগ বাড়ানো কিংবা নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা বড় চ্যালেঞ্জ।
অর্থনীতিবিদ এম কে মুজেরী বলছেন, নতুন সরকারকে ১০০ দিনের অর্থনৈতিক কর্মসূচি হাতে নিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক নিরাপত্তা খাতের প্রসার বাড়িয়ে আয়-ব্যয়ের বৈষম্য দূর করতে হবে। অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ চাঙা করার পাশাপাশি টানতে হবে বৈদেশিক বিনিয়োগও। নিশ্চিত করতে হবে জ্বালানিসহ সব ধরনের সেবা।
বিশ্লেষকদের মতে, নিজেদের কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে নতুন সরকারকে জোর দিতে হবে দুর্নীতি প্রতিরোধে। তবে কতটা গতি পাবে আগামী দিনের অর্থনীতি, তা নির্ভর করছে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর।



