মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রোববার রাত ৯টা পর্যন্ত মোট ৪০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এ ছাড়া সোমবারও ১১টি ফ্লাইটের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। সব মিলিয়ে শনিবার বিকেল থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৭৪টি ফ্লাইটের যাত্রা বাতিল হলো।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের কারণে বর্তমানে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডানের আকাশসীমা বন্ধ রয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের আকাশপথের ওপর।
শনিবার বাতিল হওয়া ফ্লাইটের মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১১টি, ইউএস-বাংলার ৬টি, এয়ার অ্যারাবিয়ার ৩টি এবং এমিরেটস, গাল্ফ এয়ার ও ফ্লাই দুবাইয়ের একটি করে ফ্লাইট।
রোববার বাতিল হওয়া ৪০টি ফ্লাইটের মধ্যে রয়েছে বিমানের ৯টি, এয়ার অ্যারাবিয়ার ৮টি, এমিরেটসের ৫টি, ইউএস-বাংলার ৪টি, ফ্লাই দুবাইয়ের ৪টি এবং গাল্ফ এয়ার, কাতার এয়ারওয়েজ, সালাম এয়ার ও কুয়েত এয়ারলাইনসের দুটি করে ফ্লাইট।
ফ্লাইট বাতিলের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ট্রানজিট নিয়ে যারা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাঁরা চরম বিপাকে পড়েছেন। কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, ফ্লাইট শিডিউল পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই। তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে।
রোববার শাহজালাল বিমানবন্দরে গিয়ে দেখা যায় যাত্রীদের ভোগান্তির চিত্র। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় বিড়ম্বনায় পড়েছেন শত শত যাত্রী। এয়ারলাইনসগুলো বাতিল বা স্থগিত হওয়া ফ্লাইটের নতুন সময়সূচি না জানানোয় অনিশ্চয়তা নিয়ে বিমানবন্দরেই অবস্থান করছেন অনেকে। থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা না করারও অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হলেও ঢাকা থেকে ইউরোপসহ অন্যান্য অঞ্চলের দেশগুলোতে ফ্লাইট চলাচল এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে।


মধ্যপ্রাচ্যগামী আরও ২৭ ফ্লাইট বাতিল
মধ্যপ্রাচ্যের ফ্লাইট নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত বিমানের
