উত্তর, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং দক্ষিণাঞ্চলে এবার আলুর বেশ ভালো ফলন। কিন্তু সংরক্ষণের পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। আর বাজারে এখন দামও কম। ফলে বিপাকে পড়েছেন কৃষক। অনেকে বাধ্য হয়ে লোকসানেই বিক্রি করছেন আলু। কৃষি কর্মকর্তারা অবশ্য প্রক্রিয়াজাত করে সংরক্ষণের পরামর্শ দিচ্ছেন।
গত বছর দাম ভালো পাওয়ায় এ মৌসুমে বেশি জমিতে আলু চাষ করেন রংপুরের কৃষক। এখানে এবার উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২০ লাখ টন। তবে সংরক্ষণের জন্য ৪০টি হিমাগারে ধারণক্ষমতা সাড়ে চার লাখ টন। এ ছাড়া এখন আলুর দাম কম থাকায় লোকসানের শঙ্কায় কৃষকেরা।
কৃষকেরা জানান, ফলন ভালো তবে আলুর দাম কম হওয়ায় উৎপাদন খরচই তোলা যাচ্ছে না।
নীলফামারীতে প্রতি বিঘায় ৪০ থেকে ৪৫ বস্তা আলু হলেও বাজারে প্রতিমণের দাম ৩০০ টাকার কাছাকাছি। অথচ এক বিঘায় খরচ ৪০ হাজার টাকার বেশি।
কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে সিন্ডিকেট এবং হিমাগারে জায়গা না পাওয়ায় লোকসানেই বিক্রি করতে হচ্ছে আলু।
চুয়াডাঙ্গায় এরইমধ্যে ৭৫ শতাংশ আলু খেত থেকে তোলা হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, হিমাগারে রেখে কিংবা প্রক্রিয়াজাত করে সংরক্ষণ করলে, কৃষক লাভবান হবেন।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক দেবাশীষ কুমার দাস বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি স্থানীয় পর্যায়ে কিছু উদ্যোক্তা তৈরি করার। যারা ফলন ভালো হলে আলু প্রক্রিয়াজাত করে বাজারে পরবর্তীতে ছাড়তে পারবে।’
কুমিল্লায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম জমিতে আলু চাষ হলেও, ফলন ভালো। কিন্তু এখানেও দাম কমের কারণে বিপাকে কৃষক।
কৃষকেরা বলছেন, আলু চাষে কৃষকদের এবার লাভ তো হয়ই নাই, বরং লোকসান হচ্ছে।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, ‘ফলন যেবার ভালো হবে সেবার আলু সরবরাহ বা সংরক্ষণের জন্য হিমাগার জাতীয় যদি কিছুর ব্যবস্থা করা যায় তাহলেই কৃষকেরা লাভবান হবে।’



