দেশের বাজারে জেট ফুয়েলের (জেট এ-১) দাম অস্বাভাবিক ও অযৌক্তিকভাবে প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধির সরকারের সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি)। আজ মঙ্গলবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সংগঠনটি।
এওএবি মনে করছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের বিমান চলাচল খাত এক ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়বে এবং অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
এর আগে আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১১২ দশমিক ৪১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০২ দশমিক ২৯ টাকা নির্ধারণের ঘোষণা দেয়। আজ এক জরুরি সভা শেষে এ সম্পর্কিত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জেট ফুয়েলের দাম বাড়ানোর কথাও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম শূন্য দশমিক ৭৩৮৫ ডলার থেকে বৃদ্ধি করে ১ দশমিক ৩২১৬ ডলার ধার্য করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এওএবি-এর সেক্রেটারি জেনারেল মফিজুর রহমান বলেন, 'দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে। গত ২২ দিনে প্রায় ২৫টি তেলবাহী জাহাজ দেশে আগমন করেছে এবং এসব তেল পূর্বনির্ধারিত মূল্যে ক্রয় করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও সাম্প্রতিক সময়ে তেলের মূল্য হ্রাস পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ মূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কাকে ভিত্তি করে এত বড় পরিসরে জেট ফুয়েলের মূল্য বৃদ্ধি করা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।'
বিজ্ঞপ্তিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের তুলনায় বাংলাদেশে জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধি অস্বাভাবিকভাবে বেশি। যেখানে ভারত ও নেপাল জেট ফুয়েলের মূল্য অপরিবর্তিত রেখেছে, সেখানে পাকিস্তানে ২৪.৪৯ শতাংশ এবং মালদ্বীপে ১৮.৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশে এই বৃদ্ধির হার প্রায় ৮০ শতাংশ।
এওএবি মনে করে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দেশের এয়ারলাইন্সসমূহ মারাত্মক আর্থিক চাপে পড়বে এবং অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ভার চাপবে। একইসাথে জেট ফুয়েলের উপর কর বৃদ্ধির ফলে সামগ্রিক পরিচালন ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের বিমান চলাচল শিল্পের টেকসই উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করবে। মূল্য বৃদ্ধির ফলে অভ্যন্তরীণ গন্তব্যে ফ্লাইট চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধের পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
তাই সরকারের প্রতি জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে এওএবি। দেশের এভিয়েশন খাতের স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে একটি বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য মূল্য নির্ধারণ করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।



