২০৩০ সালের মধ্যে সৌর (সোলার) প্যানেলের মাধ্যমে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে 'নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা-২০২৫' বাস্তবায়নে বিনিয়োগ সহজীকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মূলত জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি। এ সময় তিনি আরও বলেন, বেসরকারি বিনিয়োগকে এ বিষয়ে উৎসাহিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি কমিটি গঠনের কথাও জানান তিনি। খুব শীগ্রই কমিটি কাজ শুরু করবে।
এছাড়া আজকের বৈঠকে ৬ জুলাইকে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস হিসেবে ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। পাশাপাশি তিনি আরও জানান, ৭ নভেম্বরকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে বৈঠকে।
এর আগে, দেশের নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সক্ষমতা বাড়াতে সরকারি-বেসরকারি অংশিদারীত্ব- পিপিপি'র গাইডলাইন চূড়ান্ত করে সরকার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের জমি ব্যবহারে অল্প সময়েই মিলতে পারে ২ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ। বেসরকারি উদ্যোক্তারা বলছেন, দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নির্দিষ্ট করতে হবে। বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতিমালা আরও সহজ করার দাবিও তাদের।
উল্লেখ্য, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তারপরেও দেশে মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের মাত্র ৫ ভাগ আসে এই খাত থেকে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকার ছাদভিত্তিক ৩ হাজার মেগাওয়াট সৌর প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু সেটাও সফলতার মুখ দেখেনি।
এবার সরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জমিতে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ অবকাঠামো স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একেকটি বায়ু বা সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা হবে কমপক্ষে ৫০ মেগাওয়াট। বেসরকারি বিনিয়োগ টানতে এমন পিপিপি গাইডলাইন চূড়ান্ত করা হয়েছে ।
জমি লিজ বা কেনার ঝামেলা এড়িয়ে সরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল, পরিত্যাক্ত বিমানবন্দর, রেলবিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জমিতে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগকে ইতিবাচক বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শফিকুল আলম বলেন, 'সরকারকে যেটা করতে হবে, জমি বরাদ্দ দেওয়া থেকে শুরু করে প্রকল্প অনুমোদন এবং বাস্তবায়নের একটি সুনির্দিষ্ট টাইমলাইন (সময়সীমা) দিয়ে দিতে হবে। আর এর আওতায় সরকার যদি খুব অ্যাকোমোডেটিভ হয় এবং বিনিয়োগের যে আরও বাধা রয়েছে বাংলাদেশে সেগুলো যদি নিরসন (অ্যাড্রেস) করা যায় তাহলে দুই থেকে তিন বছরের ভেতরে দুই-তিন হাজার মেগাওয়াট অবশ্যই সম্ভব।'
নতুন গাইডলাইনের আওতায় বিদ্যুৎ বিভাগ, জাতীয় পাওয়ার গ্রিড ও সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান চুক্তিবদ্ধ হবে। এতে থাকবে ব্যাংকিং অর্থায়নের সুবিধা। প্রকল্প তৈরি ও বিদ্যুৎ ক্রয় কর্তৃপক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।
বিএসআরইএ প্রেসিডেন্ট মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, 'জমির ভাড়া কত হবে সেটা নির্ধারণ করা দরকার। অথবা জমির মালিক কতটুকু শেয়ার নেবে সেটাকে একটা পলিসির মধ্যে আনতে হবে। এরপর আপনার পাওয়ার পারচেজটা কী হবে (বিদ্যুৎ ক্রয় কীভাবে হবে), কত টাকায় সরকার বিদ্যুৎ কিনবে- এই জায়গাগুলো নির্ধারণ না করে যদি ছেড়ে দেওয়া হয় তাহলে কোনোটাই সমঝোতার মধ্যে আসবে না। একটা পিপিপি প্রজেক্ট বাস্তবায়ন কিন্তু ৫ থেকে ৭ বছর লেগে যায়। এই প্রক্রিয়া থাকলে পাওয়ার স্টেশন হবে না।'
কোন প্রকল্প অনুমোদনের আগে কারগরি উপযোগিতা আর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের শর্ত রাখা হয়েছে নীতিমালায়। প্রকল্প সমন্বয় ও তদারকিতে বিদ্যুৎ বিভাগ গঠন করবে একটি জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ। এতে যেখানে থাকবে পিপিপি কর্তৃপক্ষ, জমির মালিক, পিডিবি, ও পাওয়ার গ্রিড কর্তৃপক্ষ।



