মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর এবার আমদানি-রপ্তানি পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে সাড়ে আট শতাংশ ফুয়েল সারচার্জ আরোপ করা হয়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন বেসরকারি ডিপো মালিক ও ব্যবহারকারীরা। তবে হঠাৎ ডিপো মালিকদের এমন সিদ্ধান্তে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে ধস নামার শঙ্কায় সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে সম্প্রসারিত বন্দর হিসেবে কাজ করে ২১টি বেসরকারি কনটেইনার ডিপো। শতভাগ রপ্তানি পণ্য ও ২৫ শতাংশ আমদানি পণ্যের হ্যান্ডলিং হয় এসব ডিপোতে।
এসব ডিপোর অভ্যন্তরীণ পরিচালনা ও পরিবহন ব্যবস্থাপনায় প্রতিদিন গড়ে ৭০ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন। মালিকদের দাবি, ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে একলাফে ব্যয় বেড়েছে ১৫ ভাগ। ডিপোর স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ অবস্থায় ডিজেল সংশ্লিষ্ট ৬ খাতে ১৯ ধরনের সেবার মাসুল সাড়ে আট শতাংশ বাড়িয়েছে ডিপো মালিকদের সংগঠন (বিকডা)।
বিকডা সচিব রুহুল আমিন শিকদার বলেন, ‘আমরা শুনতে পাচ্ছি, পরিবহন খরচ বেড়েছে ৬৪ শতাংশ আবার কোথাও কোথাও দেড় গুণ বেড়েছে। তবে আমরা ডিজেলের যত শতাংশ দাম বৃদ্ধি পেয়েছে তার অর্ধেক পরিমাণ আমরা বৃদ্ধি করেছি। ফাইন্যান্সিয়ালি এর ইমপ্যাক্ট ততটা হবে না।’
বিশ্ব অর্থনীতির দুরবস্থা, বন্দরের বর্ধিত মাসুল ও আমেরিকার বাড়তি শুল্কের পাশাপাশি জাহাজ ভাড়া বাড়ায় আমদানি-রপ্তানিখাত চরম সংকটে পড়েছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা। আলোচনা ছাড়াই ডিপোর মাসুল বৃদ্ধি অযৌক্তিক, বলছেন ক্ষুব্ধ আমদানি-রপ্তানিকারকেরা।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক রাকিবুল আলম বলেন, ‘অনেক অর্ডার নেওয়া হয়েছে আজ থেকে তিন-চার মাস আগে। তখন কিন্তু এ অবস্থা ছিল না। আর এখন যে বাড়তি খরচ হচ্ছে সেটি বহন করবে কে? স্টেকহোল্ডার যারা আছেন তাদের সকলকে নিয়ে বসে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি নীতি নির্ধারণ করা উচিত।’
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু বলেন, ‘কোনো আলাপ আলোচনা ছাড়া হঠাৎ এ মূল্যবৃদ্ধির একটা বড় ইমপ্যাক্ট পড়বে ইমপোর্ট-এক্সপোর্টে। বিশেষ করে এখন এক্সপোর্টাররা চাপের মধ্যে আছেন, এ সময় যদি সাড়ে আট শতাংশ চার্জ বেশি দিতে হয় এর একটা বড় ইমপ্যাক্ট পড়বে।’
বাড়তি মাসুলের কারণে ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দাম বাড়তে পারে। তৈরি পোশাকখাতে প্রতিযোগি দেশগুলোর কাছে অর্ডার হারানোর শঙ্কাও জানিয়েছে বিজিএমইএ।



