বঙ্গোপসাগরে মাছের সুষ্ঠু প্রজননের লক্ষ্যে চলছে ৫৮ দিনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা (১৫ তারিখ থেকে শুরু হয়েছে)। পটুয়াখালীর কুয়াকাটাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের মৎস্যজীবীদের মাছ ধরার ওপর এই নিষেধাজ্ঞা ঘিরে চরম হতাশা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। জলদস্যুদের উৎপাত আর জ্বালানি তেলের সংকটে জেলেদের ওপর দীর্ঘ সময়ের এই নিষেধাজ্ঞা যেন জন্য ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’।
প্রতি বছরের মতো এবারও বঙ্গোপসাগরে ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের বংশবিস্তারে ১১ জুন পর্যন্ত সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। একদিকে জলদস্যুদের উৎপাত, অন্যদিকে চড়া দামে তেল কিনেও কাঙ্ক্ষিত মাছ না মেলায় দেনার দায়ে জর্জরিত কুয়াকাটা ও মহিপুরের হাজার হাজার জেলে।
সাধারণ এক জেলে বলছেন, ‘জলদস্যুদের জন্য আমরা নৌকা চালাতে পারি নাই, টাকাও আয় করতে পারি নাই। আমরা অনেক সমস্যার মধ্যে আছি।’
মৎস্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গভীর সাগরে কোস্টগার্ড ও নৌ-বাহিনীর টহল বাড়ানোর পাশাপাশি তেল সংকট নিরসন না করলে কঠিন হবে জেলেদের টিকে থাকা। তবে নিষেধাজ্ঞার সুফল পেতে একমত ব্যবসায়ীরাও।
মহিপুর মৎস্য আড়ৎ মালিক সমিতির সহ-সভাপতি রাজু আহমেদ রাজা বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে ৫৮ দিনের অবরোধ প্রতিষ্ঠা করা। এটা আমরা সরকারের কাছে চেয়েছি। সকলেরই এই নিষেধাজ্ঞা পালন করা উচিত।’
নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন জেলার নিবন্ধিত ৪৭ হাজার সমুদ্রগামী জেলের প্রত্যেককে ৭৭ দশমিক ৩ কেজি করে চাল সহায়তা পাবেন। তবে এই সহায়তার পরিমাণ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন জেলেরা।
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, বর্তমান সরকার মাসে ৪০ কেজি হারে প্রায় ৫৮ দিনের জন্য ৭৭ দশমিক তিন কেজি চাল জেলেদের দেবে।
আরেক জেলে বলেন, ৭৭ কেজি চাল দিয়ে পুরো পরিবার নিয়ে দুমাস চলা খুবই কঠিন। এই পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া উচিত।
নিষেধাজ্ঞা সফল করতে সমুদ্রে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকবে। নিষেধাজ্ঞা অমাণ্যকারী জেলেদের জরিমানার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে মৎস্য বিভাগ।



