অর্থনৈতিক সংস্কার থেকে সরে আসলে তা দেশের জন্য আত্মঘাতী হবে বলে মনে করে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই)। আজ বৃহস্পতিবার এক মতবিনিময় সভায় আলোচকরা বলেন, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের দূরত্ব ঘোঁচাতে হবে। স্পষ্ট করতে হবে অর্থনৈতিক নীতি পরিকল্পনাও।
সামষ্টিক অর্থনীতি নিয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিআরআই পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, দেশের ব্যাংক খাতে ৩২ ভাগ খেলাপি ঋণ, বাজারে চড়া মূল্যস্ফীতি, ৮ মাস ধরে রপ্তানি আয় নিম্নমুখি। সেই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের জেরে চলমান জ্বালানি সংকট অর্থনীতিকে বাড়তি চাপে ফেলেছে। জিডিপি অনুপাত নেমেছে ৭ শতাংশের ঘরে। এতে সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা উন্নয়নের মতো জরুরি খাতে সরকারের খরচ করার সক্ষমতা কমছে।
ব্যাংক খাতে বিশৃঙ্খলাসহ সংস্কার অব্যাহত রাখার পরামর্শ দেন বক্তারা। পিআরআইয়ের অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা যদি অর্থনৈতিক সংস্কার থেকে সরে দাঁড়াই তবে তা হবে অর্থনৈতিকভাবে আত্মঘাতী। কারণ এই অর্থনৈতিক সংস্কারকে আইএমএফের দাবি হিসেবে দেখা ভুল হবে।’
বিআইজিডি রিসার্চ ফেলো খন্দকার সাখাওয়াত আলী বলেন, ‘দ্বৈত নাগরিকত্বের ব্যাপারে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এটি আমাদের জাতীয় ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি।’
সম্ভাবনাময় খাতে করের বোঝা কমানোর দাবি তুলে ধরেন ব্যবসায়ীরা। সেই সঙ্গে সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা চান তারা। বলেন, ব্যবসা-বিনিয়োগ সম্প্রসারণে এখনো দ্বিধা দ্বন্দ্ব রয়েছে।
মতবিনিময় সভায় বলা হয়, ২০২০ সালের আগে প্রায় প্রতি দশকেই জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশ বেড়েছে। উচ্চহারের প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করতে নীতি সংস্কার এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে জোর দেন গবেষকরা।



