বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ এবং ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন না করলে সম্পদ ক্রোক করবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। এ নির্দেশনা দিয়েছেন ডিএসসিসি'র প্রশাসক আব্দুস সালাম। চলতি বছর আশানুরূপ রাজস্ব আদায় না হওয়ায় এমন নির্দেশ। শুধু ২৩টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছেই ডিএসসিসির পাওনা ১৩৭ কোটি টাকা। আর রাজস্ব আদায় কম হওয়ায় থমকে গেছে উন্নয়ন কাজ।
উল্লেক্ষ্য, ঢাকা দক্ষিণ সিটির আয় আসে ৫২টি খাত থেকে। তবে মূল উৎস হোল্ডিং ট্যাক্স এবং ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন। বিগত দুই বছর আশানুরুপ কর আদায় না হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ।
চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) হোল্ডিং ট্যাক্স এবং ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন থেকে আয় ধরা হয় ৬০০ কোটি টাকা। অথচ গেল ১০ মাসে আদায় হয়েছে ৪১০ কোটি টাকা। অর্থবছরের শেষদিকে এসে জরিমানা এড়াতে অনেকেই পরিশোধ করছেন কর।
তাদেরই একজন জানালেন, 'মার্কেটে গিয়ে স্যাররা (ডিএসসিসি কর্মকর্তারা) বলেছেন যে, যারা নবায়ন করেনি তাদের অনেক জরিমানা হয়ে গেছে, তাই এখন দিয়ে গেলাম।' আরেক করদাতা জানালেন, তিনি চার বছরের ট্যাক্স একসাথে পরিশোধ করেছেন।
ডিএসসিসি'র এক কর্মকর্তা বলেন, 'যেহেতু নগরবাসীকে আমরা সেবা দেই, সেই সেবা কার্যক্রমগুলোকে চালিয়ে নিতে হলে আমাদেরকে ট্যাক্স আদায় নিশ্চিত করতে হবে। সেজন্য নগরবাসীরও সহযোগিতা প্রয়োজন।'
ডিএসসিসি'র তথ্য বলছে, আট থেকে দশ বছর ধরে ট্যাক্স দিচ্ছে না বেশ কিছু সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বকেয়া ১৩৭ কোটি টাকা। আর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে পাওনা ৭০ কোটি টাকা।
এ প্রসঙ্গে ডিএসসিসি'র প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির সোহাগ বলেন, 'বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথেও আমরা দ্বিপাক্ষিক সভা করছি। নির্দিষ্ট করে কারও নাম বলছি না। তবে অনেক প্রতিষ্ঠানের কাছে আমাদের ৪ কোটি ৫ কোটি, ৭ কোটি টাকা পর্যন্ত পাওনা আছে। তো তাদেরকে আমরা যখন আইনগত পদক্ষেপের কথা বলছি, তাদের সাথে মিটিংও করছি।'
তবে ছোট-বড় যে প্রতিষ্ঠানই হোক না কেন, ট্যাক্স পরিশোধ না করলে সম্পদ জব্দ (ক্রোক) করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রশাসক আব্দুস সালাম।
ডিএসসিসি'র প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, 'টাস্কফোর্স গঠন করেছি। মোবাইল কোর্ট গঠন করেছি, এবং তাদেরকে নিয়মিত তাদের (যাদের কর বকেয়া তাদের) কাছে যাওয়ার জন্য বলছি। প্রয়োজনে ক্রোক, প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট দিয়ে যাতে সেগুলো উদ্ধার করা যায়। প্লাস সরকারের অনেক এজেন্সি আছে, বা সরকারের অনেক প্রতিষ্ঠান আছে, যেগুলো আজকে দীর্ঘদিন তারাও দিচ্ছে না (কর পরিশোধ করছে না) সেগুলো আমি সরকারের সাথে যোগাযোগ করছি। সেই সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে যোগাযোগ করছি, তাদেরকে ডিও (ডিরেক্ট অর্ডার) দিচ্ছি।'
হোল্ডিং ট্যাক্স এবং ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন না করায় এরই মধ্যে শতাধিক সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে ডিএসসিসি।



