সংকট না থাকলেও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধকে পুঁজি করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন কিছু অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তা। কিছু ব্যাংকের বিরুদ্ধে ডলারের বাড়তি দাম নেওয়ারও অভিযোগ আছে। যদিও ব্যাংকারদের দাবি, রেমিট্যান্স হাউসগুলো এ ক্ষেত্রে সুযোগ নিচ্ছে। ডলারের পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, দাম নিয়ে কেউ কারসাজি করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেড় বছরের বেশি সময় ধরে স্থিতিশীল ডলারের বাজার। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেও লেনদেন হয় ১২২ টাকা ২০ পয়সার আশপাশে। সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম স্বাভাবিক রাখতে উল্টো বাজার থেকে ডলার কেনে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর কিছুটা বাড়তে থাকে ডলারের বিনিময় হার। চলতি মাসে আন্তব্যাংকে ১২২ টাকা ৮৫ পয়সায়ও লেনদেন হয়।
অভিযোগ আছে, বাড়তি মুনাফার আশায় কয়েকটি ব্যাংক ডলার মজুত করছে। আবার কেউ কেউ দাম বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে আমদানি মূল্য অগ্রিম পরিশোধে উৎসাহিত করছে ব্যবসায়ীদের। তবে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ডলারের বাজারকে কেউ যাতে অস্থির করতে না পারে, সেদিকে নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বিজিএমইএর সহসভাপতি শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ‘আমদানি ও রপ্তানির মধ্যে যেন ভারসাম্য থাকে। এই ভারসাম্য যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে আমাদের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ জন্য আমরা সব সময় চাই ডলারের দাম স্থিতিশীল থাকুক। আমদানি-রপ্তানির যে অঙ্ক আছে, তা মিলিয়ে যেন বাংলাদেশ ব্যাংক দাম নিয়ন্ত্রণ করে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, দেশে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত রয়েছে ৩৫ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার। আর আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী তা ৩০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। ব্যাংকাররা বলছেন, ডলারের বাজারে আপাতত কোনো চাপ নেই। তবে রপ্তানি কমতে থাকলে এবং রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি কমে গেলে সংকট দেখা দিতে পারে।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এই মুহূর্তে কোনো চাপ নেই। যদিও আমরা কিছুটা দেখছি, কারণ হলো গত আট মাস ধরে রপ্তানি কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে আমদানি বিল বেড়ে গেছে। আরেকটি উৎস হলো রেমিট্যান্স। এখন রেমিট্যান্স হাউসগুলো ভাবছে এটি একটি সুযোগ। তারা কিন্তু দর বাড়িয়ে দিয়েছে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, ‘বৈদেশিক মুদ্রার দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা আমাদের বাজারে আছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা তা ব্যবহার করতে পারব।’
ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।



