দেশের অর্থনীতি এখনও বড় ধরনের সংকটে রয়েছে। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিকসহ ত্রিমুখী চাপ সামলাতে হচ্ছে সরকারকে। শনিবার সরকারের তিন মাসের কার্যক্রম পর্যালোচনা নিয়ে আয়োজিত পিপিআরসি'র আলোচনায় এসব মন্তব্য করেন অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান। বিশ্লেষকদের মতে, দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম তিন মাসের জন্য বাস্তবসম্মত ও কার্যকর লক্ষ্য নির্ধারণ করা উচিৎ ছিল সরকারের।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জয় লাভ করে দায়িত্ব নেয় বিএনপি সরকার। ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণসহ সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন ছিলো বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারের প্রথম তিন মাসের কার্যক্রম পর্যালোচনা নিয়ে অনলাইন আলোচনার আয়োজন করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পিপিআরসি।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, তিন মাস সরকারের জন্য কম সময় হলেও, প্রত্যাশা অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। দেশে বিদ্যমান অর্থ ও জ্বালানি সংকট। আস্থা কিছুটা ফিরলেও, সামগ্রিক পরিবেশ বিনিয়োগবান্ধব হয়ে উঠেনি।
বিকেএমইএ'র সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বলেন, 'গত ৮ মাস যাবৎ রপ্তানি নিম্নমুখী। এই রকম একটা সময়ের গত তিন মাসে সরকারের আরেকটু কার্যকর এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে (গোল ওরিয়েনটেড) আরও কিছু জিনিস আমি প্রত্যাশা করেছিলাম।'
বক্তারা আরও বলেন, গেল তিন মাসে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে দৃশ্যমান কোনো পরির্বতন আসেনি। বিশেষ করে পুলিশ প্রশাসনে এখনো রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয়করণের সংস্কৃতি রয়ে গেছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া জানান, প্রশাসন, বিচার বিভাগ, পুলিশ সব জায়গাতে একটা ভয়ের জায়গা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের চেপে বসেছে। সেটার দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন আমরা দেখিনি।
এসময় অর্থনীতিবিদরা বলেন, উত্তরাধিকারকারী সূত্রে আগের সরকারের অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যা, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ এবং সরকারের নিজস্ব অঙ্গীকার ও প্রত্যাশার চাপ রয়েছে। সব মিলিয়ে তাদের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, 'এই বোঝাগুলো ত্রিমুখী একটা বোঝা কাঁধে নিয়ে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু এবং কঠিন একটা বাস্তবতার মধ্যে নতুন সরকারকে তার কর্মকাণ্ড শুরু করতে হয়েছে।
অতীতের মতো আগের সরকারকে দায়ী করার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান বিশ্লেষকরা। আগের ভালো যে নীতিগুলো ছিল, তা যেন বাদ না পড়ে সেদিকেও নজর দেওয়ার তাগিদ তাদের।



