চলতি অর্থবছরের শেষদিকে এসেও ইউরোপের বাজারে নিম্নমুখী বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের রপ্তানি। গত ১১ মাসে তৈরি পোশাকের রপ্তানি কমেছে প্রায় সাড়ে তিন শতাংশ। রপ্তানিকারকরা বলছেন, বৈশ্বিক সংকটের পাশাপাশি দেশে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং কাস্টমস-বন্ড ব্যবস্থাপনায় জটিলতার জেরে, প্রতিযোগী দেশগুলোর সাথে সক্ষমতায় পিছিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
ইউরোপের বাজারে প্রতিযোগী দেশ চীন, ভিয়েতনাম কিংবা তুরস্ক যেখানে নিজেদের আধিপত্য বাড়াচ্ছে, সেখানে কমছে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি। মে মাসে ১৯ দশমিক ৬ শতাংশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে সাময়িকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও, চলতি অর্থবছরের ১১ মাস শেষে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে স্বস্তিতে নেই বাংলাদেশ।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য বলছে, অর্থবছরের জুলাই-মে মাসে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ৭৩৬ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। আর পুরো ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৯ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছিল ১ হাজার ৯৭১ কোটি ডলারে।
বিজিএমইএ এর পরিচালক রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘বৈশ্বিক সংকটের পাশাপাশি দেশে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং কাস্টমস-বন্ড ব্যবস্থাপনায় জটিলতার জেরে, প্রতিযোগী দেশগুলোর সাথে সক্ষমতায় পিছিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।’
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কসংক্রান্ত জটিলতায় প্রতিযোগী অনেক দেশ এখন ঝুঁকছে ইউরোপে।
মোস্তফা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক তাইমুর রহমান বলেন, ‘কাস্টমস ও বন্ডের আমলাতান্ত্রিক জটিলতার পাশাপাশি বাড়ছে উৎপাদন খরচ। সাথে আছে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি।’
রপ্তানি খাতে নেতিবাচক পরিস্থিতি এড়াতে নীতিগত সংস্কার এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ, বলছেন সংশ্লিষ্টরা।



