আমলাদের তৈরি ব্যবসা অনুপযোগী কর কাঠামো এবং বিদেশ থেকে সুতা আমদানি বেড়ে যাওয়ায় গত ৭ বছরে দেশে ১১৪টি টেক্সটাইল মিল বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার গুলশানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মলনে এ তথ্য জানায় টেক্সটাইল মিলস এসোসিয়েশন-বিটিএমএ। স্থানীয় শিল্পের সুরক্ষায় ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে কাঁচামাল আমদানিতে ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত বহাল রাখার দাবি জানায় সংগঠনটি।
গত তিন বছরে দেশে সুতা আমদানি প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। এর মধ্যে ভারত থেকে সুতা আমদানি বেড়েছে ১০৪ শতাংশ। টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন জানায়, এই সুতা দেশেই উৎপাদন করা যেত।
সংবাদ সম্মেলনে বিটিএমএ জানায়, তৈরি পোশাক খাতে কর্পোরেট করহার ১২ শতাংশ, অথচ প্রাইমারি টেক্সটাইল খাতে করের হার সাড়ে ২৭ শতাংশ। একই ভ্যালু চেইনে এই বৈষম্য প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে দাবি খাত সংশ্লিষ্টদের।
বিটিএমএ এর সাবেক পরিচালক রাজীব হায়দার বলেন, ‘ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্ক–সুবিধা ধরে রাখতে স্থানীয় মূল্য সংযোজনের হার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বা তার বেশি রাখতে হবে। তাই দেশীয় সুতা ও কাপড়ের উৎপাদন ধরে রাখতে এবং বন্ডের অনিয়ম রুখতে এই শর্ত বহাল রাখা অপরিহার্য।’
এমন অবস্থায় দেশের টেক্সটাইল খাতে কাঁচামাল আমদানিতে ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত বহাল রাখা, কর্পোরেট করহার ১২ শতাংশ নির্ধারণ এবং পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবার আমদানিতে আরোপ করা ৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার এবং নগদ সহায়তার ওপর উৎসে কর সম্পূর্ণ মওকুফের দাবি জানিয়েছে বিটিএমএ। সংগঠনের সভাপতি বলেন, বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিদেশি সুতা দেশের বাজারে ঢুকে পড়ছে।
বিটিএমএ এর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ‘সরকার অর্থনীতি চাঙা করতে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। এই ৬০ হাজার কোটি টাকা কাকে দেওয়া হবে, কেন দেওয়া হবে, কীভাবে দেওয়া হবে, তার কোনো পথনকশা এখনো আমরা দেখিনি। সরকারকে বারবার বলার চেষ্টা করেছি, পণ্যের চাহিদা নেই বা কম, এমন খাতে প্রণোদনা বা অর্থায়ন করে খুব একটা সুফল পাওয়া যাবে না; বরং সে ক্ষেত্রে টাকার অপচয় হবে।’
বিটিএমএ নেতারা জানান, অনেক কারখানা ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সক্ষমতায় উৎপাদন করছে। ফলে প্রণোদনার অর্থ বিতরণের জন্য বস্ত্র খাত সবচেয়ে বড় দাবিদার বলেও জানান ব্যবসায়ীরা।



