বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখছে জাতিসংঘ। একদিকে মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ইউরিয়া সারের দাম বেড়ে সম্ভাব্য উৎপাদন সংকট, অন্যদিকে দেশের প্রায় ৩৯ শতাংশ মানুষ স্বাস্থ্যকর খাবার কিনতে পারে না। খাদ্য সরবরাহ ও ক্রয়ক্ষমতা—দুই দিক থেকেই চাপ বাড়ছে দেশের অর্থনীতিতে।
বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা ব্যবস্থার সামনে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ। উৎপাদন পর্যায়ে বাড়ছে সার সংকটের শঙ্কা, আর ভোক্তা পর্যায়ে কমছে স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সক্ষমতা।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনায় বিশ্বব্যাপী ইউরিয়া সারের দাম বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। একই সময়ে গ্যাসসংকটে দেশের ৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত ইউরিয়া কারখানার মধ্যে ৩টিই বন্ধ। এতে ঝুঁকির মুখে আমদানিনির্ভর কৃষি খাত।
এমন পরিস্থিতিতে দেশে প্রায় ১ কোটি ৮১ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় পড়তে পারে বলে আশঙ্কা ডব্লিউএফপির।
অন্যদিকে জাতিসংঘের ৫ সংস্থা—খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ), জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ), বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সম্মিলিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে প্রতি ৫ জনের মধ্যে প্রায় ২ জনই স্বাস্থ্যকর খাদ্য কিনতে পারে না।
২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট সারের বাজারে আরও চাপ সৃষ্টি করলে বাড়বে কৃষি উৎপাদন ব্যয়। আর উৎপাদন ব্যয় বাড়লে স্বাস্থ্যকর খাদ্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়বে। ফলে খাদ্যনিরাপত্তা এখন শুধু কৃষিক্ষেত্রে নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ।



