নব্বই দশকে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ে পা রাখেন সাবরিন সাকা মীম। পরবর্তীতে অভিনয় প্রতিভা দিয়ে নাট্যাঙ্গনে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন তিনি। প্রায় ১৪ বছর আগে ডা. শাহরিয়ার আহমেদ সজিবের সঙ্গে ঘর বাঁধেন এই অভিনেত্রী। তবে শেষ পর্যন্ত টেকেনি সেই সংসার। বিচ্ছেদের প্রায় ৯ বছর পর নিজের দাম্পত্য জীবন ও বিবাহবিচ্ছেদের আদ্যোপান্ত জানালেন মীম।
সংগীতশিল্পী পুতুলের পডকাস্টে অতিথি হয়ে নিজের ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি। সেখানে উঠে আসে বিয়ের সময়কার নানা স্মৃতি, সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা এবং বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কঠিন সময়ের কথা।
তবে সংসার ভাঙার পেছনে অভিনয়ই মূল কারণ কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মীম বলেন, ‘আপনি হয়তো গান পছন্দ করেন, আরেকজনের গান নাই পছন্দ হতে পারে। আমি অভিনয় পছন্দ করি, একটা মানুষের অভিনয় নাও ভালো লাগতে পারে। কেউ হয়তো খুব পড়াশোনা পছন্দ করেন, আমার হয়তো পড়াশোনা পছন্দ হয় না! এরকমটা হতেই পারে! এসব কোনো বিষয় না। এছাড়াও আরো অনেক ইস্যু ছিল, দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো আরো খারাপের দিকে যাচ্ছিল।’
সংসার টিকিয়ে রাখার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছিলেন মীম। নিজের সেই সিদ্ধান্তের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কাউকে দোষ দেব না। হয়তো আমিও দোষী, হয়তো সেও (বর) দোষী, যার সঙ্গে আমার বিয়ে হয়েছিল। আমরা অনেক মানিয়ে নিয়ে চলি। অনেক স্বামী-স্ত্রীকে চিনি, যারা একসঙ্গে থেকেও একসঙ্গে নেই। এই সংখ্যাটা অনেক বেশি। ভালোবাসার সংসারের স্বপ্ন দেখে আমরা ছোটবেলা থেকে বড় হয়েছি। বোঝাপড়া, সমঝোতা—কতজনের মধ্যে আছে? কেউ সন্তানের কারণে, কেউ পরিবারের কারণে, কেউ মান-সম্মানের ভয়ে জোর করে সংসারটা টিকিয়ে রাখি। আমিও যখন বুঝতে পারলাম—না, এটা আসলে হচ্ছে না। আমি সাড়ে ৫ বছর অপেক্ষা করেছি। এটা দীর্ঘ সময়। এটা করেছি কারণ, কখনো যেন মনে না হয়—সংসারটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করিনি।’
২০১২ সালের ৭ ডিসেম্বর পারিবারিক আয়োজনে ডা. শাহরিয়ার আহমেদ সজিবের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মীম। বিয়ের পর অভিনয় থেকে পুরোপুরি নিজেকে গুটিয়ে নেন তিনি। মীমের শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার অভিনয় চালিয়ে যাওয়া নিয়ে আপত্তি করেছিলেন বলেও জানা যায়।


কলকাতায় আগুনে নিহত ৫ বাংলাদেশির ৪ জনের বাড়ি কুষ্টিয়ায় 
