গতকাল প্রকাশ করা হয়েছে ২০২৩ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ীদের তালিকা। এতে নিজের নাম দেখে অবাক পরিচালক নিয়ামুল মুক্তা। তাঁর পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘রক্তজবা’র জন্য তাঁকে সেরা চিত্রনাট্যকার হিসেবে পুরস্কৃত করায় বিব্রত এই নির্মাতা। এমনকি তিনি এই পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিয়েছেন।
পুরস্কারের তালিকা প্রকাশের পর নিয়ামুল মুক্তার নাম দেখে বন্ধু ও সহকর্মীরা তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে থাকেন। তবে নিজের নাম দেখে বিস্মিত ও বিব্রত হন তিনি নিজেই। শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি শুরু হয়—রক্তজবা সিনেমার চিত্রনাট্য আসলে নিয়ামুল মুক্তার লেখা নয়।
বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার রাতে মুক্তা বলেন, ‘পুরস্কারের তালিকায় নিজের নাম দেখে আমি বিব্রত। আমি নিয়ম মেনেই সিনেমাটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে এমন ভুল কীভাবে হলো, সেটাই আমার প্রশ্ন।’
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, ‘রক্তজবা সিনেমার চিত্রনাট্য লিখেছেন তাসনীমুল হাসান। এই পুরস্কার তাঁর প্রাপ্য। এটা কোনোভাবেই আমার অর্জন নয়। তাই আমি এই পুরস্কার গ্রহণ করব না।’
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে নিয়ামুল মুক্তা বলেন, ‘আমাদের দেশে প্রায়ই দেখা যায়, যাঁদের প্রকৃত অবদান থাকে, তাঁদের বাদ দিয়ে অন্যদের নাম যুক্ত হয়। কিন্তু আমি এমন কিছু করিনি। আমার সহকর্মীরা যেন আমাকে ভুল না বোঝেন, আমি অন্যের কৃতিত্ব নিতে চাই না।’
ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে পুরস্কারের তালিকা দেখার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি চিত্রনাট্যকার তাসনীমুল হাসানকে ফোন করেন বলেও জানান। তিনি বলেন, ‘আমাদের সম্পর্ক আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। সে যেন মনে না করে আমি ইচ্ছা করে ক্রেডিট নিচ্ছি—এই জন্যই সঙ্গে সঙ্গে ফোন করেছি।’
এদিকে চিত্রনাট্যকার তাসনীমুল হাসান বর্তমানে সিনেমা নিয়ে পড়াশোনার জন্য দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তিনি আরও বলেন, ‘রক্তজবা সেরা চিত্রনাট্য বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে, এটা আমাদের টিমের জন্য গর্বের। তবে চিত্রনাট্যকার হিসেবে যে নাম এসেছে, সেটা আমার লেখা নয়। আমরা চাই বিষয়টি সংশোধন হোক এবং সঠিকভাবে নতুন তালিকা প্রকাশ করা হোক।’


খারাপ সময়গুলো বুঝিয়ে দিয়েছে—কে আপন, কে পর: ফারিয়া
