ইট-পাথরের শহর, উঁচু-নিচু দালান আর ব্যস্ত রাস্তার ঠিক পাশেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি লাল-কালো স্তম্ভ। ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর উত্তরায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছিলেন মানারত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. শাকিল হোসেন। এটি তাঁর স্মরণে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ। তবে এরইমধ্যে স্মৃতিস্তম্ভটির গোড়ায় ময়লার স্তূপ জমেছে, অর্থাৎ তা একপ্রকার ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে! এমন একটি ছবি শেয়ার করে একইসঙ্গে দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। পাশাপাশি এ বিষয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা উত্থাপনের জন্য সংসদ সদস্যদের (এমপি) কাছেও একটি প্রস্তাব রেখেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন এই সাবেক উপদেষ্টা। যেখানে দেখা যায়, শহীদ শাকিলের স্মৃতিস্তম্ভের গোড়ায় ময়লার স্তূপ জমে আছে! এ বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করে ফারুকী লিখেছেন, ‘‘মাননীয় সংসদ সদস্যগণ, আপনাদের মধ্যে কেউ কি আজকে বিধি অনুসরণ করে সংসদে একটা জরুরি বিষয় আলোচনায় আনতে পারেন? যাঁদের রক্তের ওপরে এই সংসদ, যাঁরা ‘আমি যদি না ফিরি, গর্বিত হইয়ো’ বলে জীবন উৎসর্গ করে দিয়েছেন, তাঁদের স্মৃতিস্মারক যখন ময়লার ভাগাড় হয়ে যায় এই ক’মাসেই—এর চেয়ে হৃদয়বিদারক আর কী হতে পারে?’’
শুধু শহীদ শাকিলের স্মৃতিস্তম্ভই নয়, মাঝেমধ্যেই এমন ঘটনা গণমাধ্যমের শিরোনামে উঠে এসেছে। ফারুকীর কথায়, ‘এটা একটা তুলনামূলক ভালো অবস্থার ছবি। আরও অনেক জায়গার ছবি পাই, যেগুলোর দিকে তাকানো যায় না। শহীদদের মৃত্যুর স্থানে এই স্মারকগুলো ছাড়াও সারাদেশের প্রতি জেলায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা হয়েছে। যেমন শাহবাগে আছে একটা। কিছু কিছু জায়গায় সেই স্মৃতিস্তম্ভেও ময়লা জমেছে।’

বিগত ফ্যাসিবাদী আমলের দমন-পীড়নের কথা উল্লেখ করে এই সাবেক উপদেষ্টা বলেন, ‘‘বাংলাদেশের বুকে জুলাই আসার পথে কত মানুষ গুম হয়েছে, কত রাইতা (২০১৩ সালে গুমের শিকার বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনের মেয়ে) এখনও তাঁর বাবাকে খোঁজে, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সবচেয়ে বড় নেত্রীকে (বেগম খালেদা জিয়া) বাড়ি থেকে অপমান করে বের করা হয়েছে, জেলে পোরা হয়েছে, শতশত রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুন-জুলুমের শিকার হয়েছে, অবশেষে জুলাইয়ে পুরো বাংলাদেশ গুলির মুখে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছে, বলেছে ‘বুক পেতেছি গুলি কর’। সেই জুলাইকে অপমান করতে চাচ্ছে কে বা কারা?’’
সারাদেশের জুলাই স্মৃতিস্তম্ভগুলো ব্যাবস্থাপনার দাবি জানিয়ে ফারুকী লেখেন, ‘এই স্মৃতিস্মারকগুলো ব্যবস্থাপনার একটা বিহিত করা যাবে না এই বাংলাদেশে, যে দেশটা তাঁরা মুক্ত করে দিয়ে গেছে? যাঁদের কারণেই আজকের এই পার্লামেন্ট দৈত্যের হাত থেকে মুক্ত হয়েছে?’
সবশেষে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা ছাত্র-জনতার প্রতি আহ্বান জানিয়ে এই সাবেক উপদেষ্টা বলেন, ‘সরকারের পাশাপাশি আমি জুলাইয়ের ভাই-বোনদের একটা অনুরোধ জানাতে চাই। জুলাই আপনারাই এনেছেন। আপনাদের বন্ধুরাই মারা গেছে। প্রত্যেক এলাকায় কমিটি করে এগুলোর দিকে নজর দেয়া যায়? কোথাও অব্যবস্থাপনা দেখলে স্থানীয় প্রশাসনকে বলা যায়?’


ভোট দিয়ে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের দাবি জানালেন দেব
