ছোটবেলা থেকেই অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখা। তবে বন্ধু-বান্ধব আর পরিচিতমহলে যখন এই কথা বলতেন, তাঁর কথায় হাসতেন অনেকে! বলতেন, ‘পাগল ছেলে! স্বপ্ন নাকি ছাই! কীসব বলে বেড়ায়!’ যেহেতু শৈশব থেকেই তাঁর কথায় ছিল অস্পষ্টতা! গায়ের রঙ শ্যামলা! নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান বিধায় আর্থিক সীমাবদ্ধতাও প্রবল! কিন্তু আজ সেসব প্রতিবন্ধকতা আর উপহাস শুধুই অতীত! সংগ্রামমুখর এক জীবনকে সঙ্গী করেই তিনি ছুটে চলেছেন স্বপ্নের দিগন্তে। বলা হচ্ছে, ছোটপর্দার পরিচিত মুখ সামীর রূহানির কথা। নাটক, ওটিটি কিংবা সিনেমায় চুটিয়ে কাজ করছেন এই তরুণ। সক্রিয় রয়েছেন লেখালেখির জগতেও। আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনৈতিক বিষয়ে লেখেন তিনি।
শোবিজ অঙ্গনে সামীরের শুরুটা ২০১১ সালে। ‘ইন্টার অ্যাকটিভ’ নামের একটি শুটিং হাউজের দায়িত্ব নিয়ে এই পথচলা। এরপর দীর্ঘ ৭ বছর কাজ করেছেন ক্যামেরার পেছনে। কখনও সহকারী পরিচালক, আবার কখনও ক্রিয়েটিভ পরিচালক হিসেবে। পরিচালনার পাশাপাশি আয়ত্ত করেছেন অভিনয়ের খুঁটিনাটি। সেখান থেকেই তাঁর পর্দায় অভিষেক ২০১৭ সালে, ইস্টার্ন প্লাজার একটি বিজ্ঞাপনের মধ্যদিয়ে। এরপর বেশকিছু জাতীয় দৈনিকের ফিচার পাতায় মডেল হয়েছেন, অংশ নিয়েছেন ফ্যাশন শোয়ে।

অবশেষে এল সেই প্রতীক্ষিত মুহূর্ত! ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত দীপংকর দীপন পরিচালিত ‘অন্তর্জাল’ ছবির মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক করেন। এতে তিনি চিত্রনায়ক সিয়াম আহমেদের এক বন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। এরপর পরিচালক সাইফ চন্দনের পলিটিক্যাল অ্যাকশন থ্রিলার ‘লোকাল’ ছবিতে দেখা যায় তাঁকে, এই সুবাদে বেশ ভালো পরিচিতিও পেয়ে যান।
ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটালকে এই তরুণ তুর্কি জানান, অভিনয় কিংবা লেখালেখির প্রতি তাঁর আগ্রহের শুরুটা হয়েছিল ছোটবেলায় নিজের হাতে বানানো কার্ড, মোম আর কাচের তৈরি শিল্পকর্ম এবং নিজের হাতে আঁকা কিছু পেইন্টিং বিক্রি করার মাধ্যমে, যা তাঁকে সেই সময় বেশ অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল। তখন তিনি পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। এরপর উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তির পর আপন মনে গল্প-কবিতা লেখা, আর লাইব্রেরিতে শরৎচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, সত্যজিৎ রায়, মারিও পুজো, লিও তলস্তয়, হুমায়ুন আজাদ কিংবা বঙ্কিমচন্দ্র পাঠ। অন্যদিকে, জড়তা দূর করতে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার চর্চা। বর্তমানে বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, টার্কিশ, স্প্যানিশসহ একাধিক ভাষায় দক্ষতা রয়েছে তাঁর।

দীর্ঘদিন ধরেই টিভি নাটকে কাজ করছেন সামীর। অভিনয় করেছেন তানজিন তিশা, কেয়া পায়েল, জোভান, তৌসিফ আহমেদ, তাসনিয়া ফারিণ, প্রীতম হাসানদের মতো জনপ্রিয় তারকাদের সঙ্গে। লাভার বয়, ইয়াংস্টার থেকে শুরু করে সুপার মডেল, গ্যাংস্টার—এমন নানা রকম চরিত্রে দেখা গেছে তাঁকে। নির্মাতা শিহাব শাহীনের ওয়েব ফিল্ম ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’-তে অভিনয়ের পাশাপাশি ম্যানেজমেন্ট ইনচার্জ হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া নির্মাতার ‘দাগী’ চলচ্চিত্রেও ছিলেন ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে।
সামীরের লক্ষ্য এবার হলিউডে কাজ করা। নিজেকে একজন রুচিশীল ‘অ্যাকশন হিরো’ হিসেবে নির্মাণ করতে চান তিনি। ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটালকে বললেন, ‘আমার লক্ষ্য হলিউডে কাজ করা।’
যোগ করে তিনি বলেন, ‘রাজশাহীর মধ্যবিত্ত একটি পরিবারে আমার জন্ম। যখন ছোট ছিলাম, তখন বলতাম যে হিরো হব, অভিনয় করব—সবাই তখন হাসত! তবে আমি সেটা প্রমাণ করে দেখিয়েছি। এখন আর কেউ হাসে না! তাই স্বপ্নটা আমার হলিউড ঘিরে।’

সামীরের প্রিয় অভিনেতাদের মধ্যে রয়েছেন সালমান শাহ, উত্তম কুমার, ফিরোজ খান, বিনোদ খান্না, শাহরুখ খান, এঙ্গিন আলতান দ্যুজিয়াতান, জেট লি, ক্রিশ্চিয়ান বেল, লিওনার্দ ডিক্যাপ্রিও, ভিন ডিজেল প্রমুখ। পরিচালকদের মধ্যে তাঁর প্রিয় সত্যজিৎ রায়, ক্রিস্টোফার নোলান, রাকেশ ওমপ্রকাশ মেহরা, রাজকুমার হিরানি, মেহমেত বোজদাগ প্রমুখ।
এই তরুণ অভিনেতা বলেন, ‘স্বপ্ন সেটাই, যা আপনাকে ঘুমাতে দিবে না এবং মানুষের ঘুম হারাম করে দিবে। আপনার স্বপ্ন যদি মানুষকে ভয় পাইয়ে না দেয়, তাহলে সেটা স্বপ্ন হতে পারে না। আপনারা যাঁরা স্বপ্ন দেখবেন, তাঁরা অবশ্যই দামি স্বপ্ন দেখবেন; কারণ স্বপ্ন সস্তা হতে হয় না, তাহলে দিনশেষে আপনি মানুষটাই সস্তা হয়ে যাবেন।’
ব্যক্তিগত জীবনে সামীর রূহানি একজন মেক্যানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। তাঁর গ্রামের বাড়ি চুয়াডাঙ্গায়, কিন্তু বাবা পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে রাজশাহী অঞ্চলের প্রধান কার্যালয়ে প্রশাসন শাখায় চাকরি করতেন, ফলে রাজশাহীতেই তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা, স্কুল-কলেজ সবকিছু।


ছোটদের মনে রাজত্ব করা ‘ডোরেমন’ এবার বড়পর্দায়
‘আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর গল্পটা আমার বাবার’, আবেগাপ্লুত ফারিয়া
