ইতালির মর্যাদাপূর্ণ ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দেশে ফেরার পর আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে তিনি ও তাঁর পরিবারের খোঁজ-খবর নিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে অভিনেত্রী নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ফেসবুকের সেই পোস্টে বাঁধন লিখেছেন, ‘আজ আমার ও আমার পরিবারের খোঁজ নিতে আমাদের বাসায় এসেছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জনাব হুমায়ুন কবির সাহেব। তাঁর এই আন্তরিকতা, সৌজন্য ও দায়িত্বশীলতার জন্য আমি গভীরভাবে সম্মানিত ও কৃতজ্ঞ।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই কঠিন সময়ে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আমাদের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ আমাকে ব্যক্তিগতভাবে যেমন আশ্বস্ত করেছে, তেমনি একজন নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের প্রতি আমার আস্থাকেও আরও দৃঢ় করেছে।’
‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি তার জনগণ’—এমনটা উল্লেখ করে বাঁধন বলেন, ‘সেই জনগণের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্র যখন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে, তখন নাগরিকের আস্থার জায়গাটি আরও শক্তিশালী হয়।’
বাংলাদেশ সরকার, প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ দূতাবাস, ইতালীয় সরকার, পুলিশ বিভাগসহ দেশে-বিদেশের যাঁরা ইতালির ওই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান বাঁধন।
সবশেষে তিনি বলেন, ‘এই অভিজ্ঞতা আমাকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে—অন্যায়, ভয় ও বিভাজনের বিরুদ্ধে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ঐক্য, সাহস এবং মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধ। মতের পার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু একজন নাগরিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে কোনো আপস হতে পারে না। আজ আমরা আবারও দেখেছি, মানুষ যখন ন্যায় ও সত্যের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তি আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব একটি নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।’
প্রসঙ্গত, ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নেওয়া প্রথম বাংলাদেশি চলচ্চিত্র ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত এ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতেই ইতালি গিয়েছিলেন বাঁধন। ৮৩তম ভেনিস উৎসবে বাংলাদেশি সিনেমাটি ইনডিপেনডেন্ট ফিল্ম ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড ‘প্রেমিও বিসাতো দ’ওরো’ অর্জন করেছে। তবে সেই চলচ্চিত্র উৎসব চলাকালেই একটি পার্কে ঘুরতে গিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলা ও শারীরিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন এই অভিনেত্রী।


‘তারা নিজেদের জন্যই বিপদ ডেকে আনছেন’, দেশে ফিরে বাঁধন
