ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে চিত্রনায়িকা পরী মণির বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাংবাদিক ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা, ধাক্কাধাক্কি ও মারধরের অভিযোগও এসেছে। এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ডিজিটাল রিপোর্টার্স ফোরাম (ডিআরএফ)।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, আদালত প্রাঙ্গণে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অন্তত পাঁচ সাংবাদিক আহত ও লাঞ্ছিত হয়েছেন। আহত ও হেনস্তার শিকার সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসেন রাজু, টাইমস টুডের শাহ রিয়াজ, আগামীর সময়ের শিমাম হোসেন এবং জাগো নিউজের আশিকুজ্জামান ও আব্দুল্লাহ আল কাউছার।
ডিআরএফের অভিযোগ, সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে পরী মণি তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। পাশাপাশি তার নিরাপত্তাকর্মীরা সাংবাদিকদের ধাক্কাধাক্কি ও মারধর করেন। এ সময় কয়েকজনের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও ওঠে। আহত সাংবাদিকরা ইতোমধ্যে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
সংগঠনটি বলেছে, একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থানে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া কিংবা তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একইভাবে নিরাপত্তাকর্মীদের মাধ্যমে হেনস্তার ঘটনাও উদ্বেগজনক।
ডিআরএফ মনে করে, এ ধরনের ঘটনা শুধু সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদার ওপর আঘাত নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের দায়িত্ব পালনের পরিবেশের জন্যও হুমকিস্বরূপ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
পরী মণি ও তার নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের যথাযথ তদন্ত, দায়ীদের শনাক্ত করে শাস্তির ব্যবস্থা এবং কেড়ে নেওয়া মোবাইল ফোনসহ সাংবাদিকদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
পাশাপাশি আহত সাংবাদিক ও বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছে ডিআরএফ।
বিবৃতির শেষাংশে সংগঠনটি জানায়, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকরা কোনো ব্যক্তি, তারকা কিংবা প্রতিষ্ঠানের হাতে অপমান, হুমকি বা হামলার শিকার হবেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনায় যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ডিজিটাল রিপোর্টার্স ফোরাম।
জানা গেছে, এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ১০ জন ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী নিয়ে আদালত চত্বরে হাজির হন পরী মণি। পরে বেলা ১১টা ৪১ মিনিটে এজলাসে প্রবেশ করেন তিনি। সেখানে তার উপস্থিতিতে জামিন আবেদনের শুনানি শুরু হয়। অভিনেত্রীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী। শুনানি শেষে ৫০০ টাকা মুচলেকায় পরী মণির জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।
তবে শুনানি চলাকালেও পরী মণির নিরাপত্তাকর্মীদের আচরণ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, তারা সাংবাদিকদের এজলাসে প্রবেশে বাধা দেন। এমনকি সাংবাদিক ও আইনজীবীদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেন।
আদালতের কার্যক্রম শেষে গাড়িতে ওঠার সময় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরী মণি অভিযোগ করেন, ভিড়ের মধ্যে কেউ একজন তাকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করেছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক সাংবাদিকের ওপর ক্ষুব্ধ হন তিনি। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করেন অভিনেত্রী। অবশ্য কিছুক্ষণ পর ফোনটি ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তবে কে তাকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করেছেন, তা স্পষ্ট হয়নি।


ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ উচিত জবাব দেবে: প্রধানমন্ত্রী
