ঘোষিত হলো ৯৬তম অস্কার। এ বছর সেরা সিনেমার পুরস্কার জিতেছে ক্রিস্টোফার নোলানের ‘ওপেনহাইমার’। এমনকি এর জন্য প্রথমবারের মতো সেরা পরিচালকের পুরস্কারও উঠেছে এই মার্কিন নির্মাতার হাতে। এ ছাড়া সেরা অভিনেতা, সেরা পার্শ্ব অভিনেতাসহ মোট ৭টি পুরস্কার ঘরে তুলেছে এটি।
সিনেমাটির গল্প এগিয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পারমাণবিক বোমা তৈরি করে হইচই ফেলে দেওয়া বিজ্ঞানী জে. রবার্ট ওপেনহাইমারের জীবনী অবলম্বনে। কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন কিলিয়ান মারফি। অন্যান্য চরিত্রে রয়েছেন রবার্ট ডাউনি জুনিয়র, এমিলি ব্লান্ট, ম্যাট ডেমন, ফ্লোরেন্স পিউ প্রমুখ।
এবারের অস্কারে কেন ওপেনহাইমারের জয়জয়কার, চলুন জেনে নেওয়া যাক আলোচিত সেই দিকগুলো—
নির্মাতার আবেগী প্রকল্প
শৈশব থেকেই বিজ্ঞানী ওপেনহাইমারের প্রতি মুগ্ধতা ক্রিস্টোফার নোলানের। চলচ্চিত্রটির গবেষণা ও বিকাশের জন্য কয়েক বছর ব্যয় করেছেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ওপেনহাইমার এখন পর্যন্ত তাঁর সবচেয়ে ব্যক্তিগত ও উচ্চাভিলাষী এক চলচ্চিত্র। এতে তিনি হৃদয় ও আত্মা একাত্ম করে দিয়েছেন।
অভিনয়শিল্পীরা দুর্দান্ত
চলচ্চিত্রটিতে নজর কেড়েছেন নাম ভূমিকায় থাকা অভিনেতা কিলিয়ান মারফি ও তাঁর সহশিল্পীরা। এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ‘সিনেমাটির বিষয়বস্তু গভীর ও তারকাখচিত কাস্টিং, এমনকি প্রযুক্তিগতভাবেও চমকপ্রদ; ক্রিস্টোফার নোলান পরিচালিত জে রবার্ট ওপেনহেইমারের বায়োপিকটি হলিউডের অন্য সত্য গল্পের ওপর ভিত্তি করে বানানো সিনেমার চেয়ে অনেক বেশি জটিল।’ এ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেতার পুরস্কার জিতেছেন রবার্ট ডাউনি জুনিয়র।
উচ্চ প্রযুক্তির ছোঁয়া
সিনেমাটির প্রোডাকশন ডিজাইন, সিনেমাটোগ্রাফি, সাউন্ড ডিজাইন ও এডিটিং—সবই অত্যাশ্চর্য। এর ভিজ্যুয়াল দর্শকের মনে প্রভাব বিস্তার করে। সিনেমাটিতে আইম্যাক্স ক্যামেরা ও ৭০ মিমি ফিল্ম স্টকও ব্যবহার করা হয়েছে, যা গুণমান বাড়িয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া দর্শকদের বাস্তবসম্মত অভিজ্ঞতা দিতে ন্যূনতম সিজিআই-এর ব্যবহার নোলানের নির্মাণ-শৈলীর দক্ষতাকে ফুটিয়ে তোলে।

অসাধারণ আবহ সংগীত
এতে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন সুইডিশ সংগীত পরিচালক লুডভিগ গোরানসন। আবহ সংগীতে তিনি অর্কেস্ট্রাল, ইলেকট্রনিক ও ভোকালকে মিশিয়ে দিয়েছেন, যা চলচ্চিত্রটির গল্পে শক্তিশালী অনুষঙ্গের স্বাক্ষর রাখে। এমনকি এতে গিগার কাউন্টারের শব্দও রয়েছে, পুরো সিনেমাজুড়ে তা উত্তেজনা ও ভয়ের অনুভূতি তৈরি করে। এই স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর ‘বেস্ট অরিজিনাল স্কোর’ পুরস্কারটি জিতে নিয়েছে ওপেনহাইমার। এর আগে ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ ছবির জন্য অস্কার জিতেছিলেন লুডভিগ।
বাণিজ্যিক উপাদানযুক্ত ঐতিহাসিক আখ্যান
ইতিহাসনির্ভর এই সিনেমার গল্পে বাঁক রয়েছে প্রতিনিয়ত। বাস্তব ঘটনা ও চরিত্রের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হলেও দর্শকের জন্য এটি কল্পকাহিনি ও অনুমানের নানা উপাদান যোগ করে। সিনেমাটির গল্প এগিয়ে যায় ওপেনহাইমার ও তাঁর সহকর্মীদের নৈতিক, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত দ্বিধা এবং তাঁদের কর্মের পরিণতি ও প্রভাবকে কেন্দ্র করে। এ ছাড়া সময়, বাস্তবতা ও স্মৃতির প্রকৃতি সম্পর্কে বেশ কিছু প্রশ্নও উত্থাপন করে, যা নোলানের চলচ্চিত্রের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।
সময়োপযোগী চলচ্চিত্র
চলচ্চিত্রটি সময়ের সঙ্গেও প্রাসঙ্গিক। বিজ্ঞানী ও বিশ্বনেতাদের নৈতিক দায়িত্বের পাশাপাশি পারমাণবিক অস্ত্র ও প্রযুক্তির সম্ভাব্য বিপদের ইঙ্গিতও রয়েছে এতে। এমনকি জলবায়ু পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রভাব এবং মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে পরিবেশগত অবক্ষয় সম্পর্কেও সতর্ক করে, যা তরুণ প্রজন্মকে আদর্শিক চেতনার বার্তা দেয়।


কোন পরিচালকের থলেতে যাচ্ছে পুরস্কার
জীবনের প্রথম অস্কারের স্বাদ পেলেন ‘আয়রনম্যান’খ্যাত ডাউনি
