হলিউডে অস্কারের মৌসুম মানেই হিসাব-নিকাশ, পূর্বাভাস আর শেষ মুহূর্তের চমকের অপেক্ষা। ১৫ মার্চ রাতে (আমেরিকার সময়) বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র পুরস্কার অস্কারের ৯৮তম আসর বসছে। এবার সেরা ছবির বিভাগে ১০টি সিনেমা মনোনয়ন পেয়েছে। তবে পুরস্কার মৌসুমের বিভিন্ন গিল্ড, সমালোচক সংগঠন ও উৎসবের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে কয়েকটি ছবিই মূল লড়াইয়ে এগিয়ে রয়েছে।
সবচেয়ে এগিয়ে
‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’
অনেক বিশ্লেষকের মতে, এই ছবিটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে। পল থমাস অ্যান্ডারসনের পরিচালনায় তৈরি ছবিটি ইতোমধ্যে প্রযোজক গিল্ড, পরিচালক গিল্ডসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার জিতেছে। অস্কারের ইতিহাস বলছে—এই গিল্ডগুলোতে জয়ী ছবিগুলোই প্রায়ই শেষ পর্যন্ত সেরা ছবির ট্রফি পায়। লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও অভিনীত ছবিটি রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে তৈরি হওয়ায় একাডেমির ভোটারদের কাছেও গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।
শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী
‘সিনার্স’
অস্কারের দৌড়ে শেষ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি গতি পেয়েছে এই ছবিটি। রায়ান কুগলারের পরিচালনায় ভ্যাম্পায়ার গল্প, ব্লুজ সংগীত ও কৃষ্ণাঙ্গ ইতিহাসের মিশেলে তৈরি সিনেমাটি সমালোচক ও দর্শক—দু’দিকেই সাড়া ফেলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে অভিনেতা গিল্ডের পুরস্কারে সাফল্য পাওয়ায় এর সম্ভাবনা আরও বেড়েছে। যদিও হরর ঘরানার সিনেমা অস্কারে খুব কমই সেরা ছবির পুরস্কার পায়—এটাই একমাত্র বড় প্রশ্ন।
সম্ভাব্য চমক
‘হ্যামনেট’
ক্লোয়ি ঝাও পরিচালিত এই ছবিটি অনেকের কাছে ‘ডার্ক হর্স’। শেক্সপিয়রের পারিবারিক জীবনের কল্পিত গল্প নিয়ে তৈরি সিনেমাটি টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবে শীর্ষ পুরস্কার জিতে আলোচনায় আসে। আবেগঘন ও নান্দনিক নির্মাণশৈলী একাডেমির অনেক ভোটারের পছন্দ হতে পারে।
‘দ্য সিক্রেট এজেন্ট’
ব্রাজিলের সামরিক শাসনের পটভূমিতে তৈরি এই রাজনৈতিক থ্রিলার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বিভাগে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে একই সঙ্গে সেরা ছবির বিভাগে জেতা কঠিন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
মাঝামাঝি অবস্থানে
‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’
চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জীবন নিয়ে তৈরি এই মেটা-ড্রামা সমালোচকদের কাছে প্রশংসা পেয়েছে। কিন্তু ছবিটির ধীর ও অন্তর্মুখী ধাঁচ একাডেমির সব ভোটারের কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।
‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’
গিলের্মো দেল তোরোর সিনেমাটি কারিগরি দিক—বিশেষ করে পোশাক, মেকআপ ও প্রোডাকশন ডিজাইনে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে সেরা ছবির পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম।
সম্ভাবনা কম
‘এফ ওয়ান: দ্য মুভি’
বড় বাজেটের ব্লকবাস্টার হিসেবে আলোচনায় থাকলেও এই ছবিটি মূলত প্রযুক্তি ও ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতার জন্য প্রশংসিত। তাই সেরা ছবির দৌড়ে খুব একটা এগিয়ে নেই।
‘মার্টি সুপ্রিম’
এই ছবির সবচেয়ে বড় শক্তি টিমোথি শ্যালামের অভিনয়। সেরা অভিনেতা বিভাগে তার সম্ভাবনা থাকলেও ছবিটি সেরা ছবির দৌড়ে পিছিয়ে।
‘বুগোনিয়া’
ইয়র্গোস লানথিমোসের অদ্ভুত ও ব্যঙ্গাত্মক এই সিনেমা সমালোচকদের দৃষ্টি কাড়লেও অনেক ভোটারের কাছে এটি অতিরিক্ত অদ্ভুত মনে হয়েছে।
‘ট্রেন ড্রিমস’
স্বাধীনধারার ছোট বাজেটের এই সিনেমা মনোনয়ন পাওয়াটাই বড় সাফল্য। তবে ট্রফি জেতা কঠিন।
সূত্র: স্কয়ার, পেজ সিক্স, দ্য টাইমস, গালফ নিউজ


‘প্রেমে পড়েছি, মনও ভেঙেছে’
এবার মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়া হলো শিলাজিৎকে
