আসছে বিয়ের মৌসুম। রীতি-রেওয়াজের পাশাপাশি বিয়ের প্রতিটি আয়োজনে সংগীত এখন অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ। অনুষ্ঠানে বর ও কনে পক্ষের মানুষেরা দুষ্টু-মিষ্টি কথায় একে-অপরের ওপর প্রভাব বিস্তার করবেন, নৃত্যে করবেন পরাভূত—এটাই সময়ের চাহিদা। আর সেই চাহিদা মেটাতে নতুন গান নিয়ে এলেন সময়ের আলোচিত তরুণ সংগীতশিল্পী মুজা। সঙ্গে আছেন আরেক তরুণ শিল্পী সানজানা। গানটির নাম ‘মাইয়া’।
‘মাইয়ার কথা আমার এতো ভালো লাগিল/ পোলা আমার কথা শুইনা প্রেম জাগিল’—গানে এমন কথায় ‘পোলা-মাইয়া’ ধরাশায়ী করতে চেয়েছেন একে অপরকে। মুজা জানান, গানটিতে একজন নারীর সৌন্দর্যের চেয়ে ব্যক্তিত্বকে প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সাধারণত কারও সৌন্দর্যে আবিষ্ট হই। কথা বলার পর সেই ভালোলাগা আরও বেড়ে যেতে পারে ব্যক্তিত্বর কারণে। সেটাই গানের কথায় রাখতে চেয়েছি আমরা।’

মাইয়া গানটি তৈরির গল্প জানাতে গিয়ে মুজা বলেন, ‘উৎসব (বিয়ে) মৌসুমের কথা চিন্তা করেই গানটি করা। এটি আমার কাছে খুবই স্পেশাল, কারণ গানটিতে আমার কণ্ঠে কোনো প্রতিধ্বনি (রিভার্ব) ব্যবহার করা হয়নি। নতুন আওয়াজটা শ্রোতাদের শোনাতে চেয়েছি। গানটি পপ জনরার, সঙ্গে কাওয়ালির ভাবটা আছে। সানজানার কণ্ঠ আমার কাছে ভালো লেগেছে জন্যই তার সঙ্গে কাজ করা। তবে আমি জানতাম না যে সে একজন অসাধারণ নৃত্যশিল্পী!’
সংগীতশিল্পী হিসেবে মুজা আরও আগেই পরিচিতি পেয়েছেন। কিছুটা নতুন হলেও দর্শকদের নজর কেড়েছেন মাইয়া গানের কণ্ঠশিল্পী ও মডেল সানজানা। তরুণ ও নবীন এ শিল্পী তাঁর সম্পর্কে জানান, ছয় বছর বয়স থেকে গান শিখছেন সানজানা। এখন ব্যবসার কাজে ব্যস্ত থাকলেও সুযোগ পেলেই গানের চর্চা করেন।
গানটি তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়ে সানজানা বলেন, ‘মুজার প্রথম গান প্রকাশের সময় থেকেই আমরা পরিচিত। মাইয়া গান তৈরির শুরুটা সিনেমার দৃশ্যের মতোই। হঠাৎ কেউ অন্ধকার স্টুডিওর দরজা খুলে বের হলেন, সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শুভেচ্ছা বিনিময় হলো, তারপরেই দেখলাম আমরা গানটি নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছি।’

পার্থ শেখ পরিচালিত গানটির মিউজিক ভিউওটি দেখার পর খুবই ভালো লেগেছে এই দুই কণ্ঠশিল্পীর। সানজানা জানান, তাঁর প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হয়েছে কাজটি।
মিউজিক ভিডিওতে কোরিওগ্রাফি পরিচালনা করেছেন তরুণ কোরিওগ্রাফার হৃদি শেখ। ২০১৮ সালে মুজার প্রথম কাজে তিনি ছিলেন, এবার মাইয়া গানের কোরিওগ্রাফি করলেন।
এরইমধ্যে সবার কাজের পরিধি বেড়েছে, সেটা ভেবে অবাক লাগছিল হৃদি শেখের। তিনি বলেন, ‘যেহেতু বিয়ের মৌসুমের গান, তাই পরিকল্পনাটাও ওইরকমভাবে করেছি এবং আমাদের ডিওপি তাহসিন ভাইয়ের (তাহসিন রহমান) সঙ্গে ধারণাগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। এখানে শুধু নৃত্যের মুদ্রাগুলোই গুরুত্বপূর্ণ নয় বরং সেট ডিজাইন, পোশাক, আলো, নৃত্যশিল্পীর সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এবার পুরুষ নৃত্যশিল্পীদের ওপরও জোর দেয়া হয়েছে।’
নৃত্যে কেমন করলেন কণ্ঠশিল্পী মুজা ও সানজানা? হৃদির মতে, ‘সৃজনশীলতা ও শিল্পীদের আত্মবিশ্বাস স্বাভাবিক দেখাচ্ছে কিনা সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেই দিক থেকে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা পরিবেশনাকে উজ্জ্বল করে তুলেছে।’
সানজানা বলেন, ‘রাতে ডান্স প্র্যাকটিস, সকালে রেকর্ডিং—ঘুম ছিল না। সব স্বপ্নের মতো মনে হয়েছে।’
মাইয়া গানটির কথা লিখেছেন মুজা ও বাঁধন। এর সংগীত প্রযোজনা করেছেন মুজা ও ডেডবানি। সংগীতায়োজন করেছেন মুজা। সহনৃত্যশিল্পীরা ছিলেন আরএস প্রোডাকশনের। গানটি প্রকাশ পেয়েছে ৮ নভেম্বর।


‘নতুন কুঁড়ি’র সেরাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন প্রধান উপদেষ্টা
