গেল ১০ থেকে ২১ নভেম্বর ব্রাজিলের বেলেম শহরে অনুষ্ঠিত হয় এবারের জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলন কপ-৩০। জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারের মাধ্যমে কার্বণ নিঃসরণ কমানোর ওপর জোর দেন পরিবেশবিদ এবং বিজ্ঞানীরা। সেইসাথে সম্মেলনে গুরুত্ব পায় জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র দেশগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত প্রসঙ্গ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা যায়, শনিবার জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে একটি চুক্তিতে সম্মত হয়েছেন বিশ্ব নেতৃবৃন্দ। চুক্তিতে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সাথে মোকাবিলায় দরিদ্র দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন বৃদ্ধি করবে উন্নত দেশগুলো। তবে চুক্তিতে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী জীবাশ্ম জ্বালানি পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার কোনো উল্লেখ নেই।
চুক্তিতে জলবায়ু-সম্পর্কিত বাণিজ্য বাধা পর্যালোচনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সেইসাথে উন্নত দেশগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতির মুখে পড়া উন্নয়নশীল দেশগুলোকে দেওয়া অর্থ অন্তত তিনগুণ বৃদ্ধি করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া বৈশ্বিক উষ্ণায়ন দেড় ডিগ্রির মধ্যে রাখতে সকল পক্ষকে একসাথে কাজ করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
এই চুক্তি জলবায়ু সম্মেলনকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। এসময় এই চুক্তি নিয়ে পরিবেশবাদী ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে অসন্তোষের বিষয়েও আলোচনা করেন তিনি।
গত বছরের সম্মেলনে ধনী দেশগুলো জলবায়ু বিপর্যয়ের ধাক্কা সামলাতে দরিদ্র দেশগুলোর জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু এখনো সেই অর্থ বিতরণ হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে নতুন অর্থায়নের প্রতিশ্রুতিতে খুব বেশি আস্থা রাখতে পারছেন না পরিবেশবাদীরা।



