গাঙ্গেয় ডলফিন বা শুশুকের শব্দ তরঙ্গ ও সংকেত বুঝতে চলছে গবেষণা। খাবার শিকার ও বিপদের সময় কি ধরণের সংকেত আদান-প্রদান হয়, বিশেষ ডিভাইসের মাধ্যমে তা জানতে পারছেন গবেষকরা। গবেষণাটি চলছে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা নদী ও আশেপাশের খালে।
এতে যৌথভাবে কাজ করছেন চীনের ইনস্টিটিউট অব হাইড্রোবায়োলজি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। এভাবে শুশুক নিয়ে গবেষণা বিশ্বের প্রথম।
মিঠা পানির নদীতে চলছে ডলফিন বা শুশুক জরিপ। যমুনা, পদ্মা, মেঘনার মোহনা ও খালের বাঁকে ভেসে চলেছে বাঘ মামা নামের সার্ভে বোট। এতে কাজ করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও চীনের গবেষকরা। প্রাণিটির গতিবিধি ও অবস্থান জানতেই এই আয়োজন।
গবেষক দলের প্রধান বলেন, শুশুকের শব্দ তরঙ্গ নিখুঁতভাবে ধরতে, চারটি হাইড্রোফোনের সমন্বয়ে বিশেষ ডিভাইস বানানো হয়েছে। চীনের ইয়াংজি নদীর পাখনাবিহীন ডলফিন নিয়ে এমন গবেষণা হয়েছিলো। তবে গাঙ্গেয় ডলফিন গবেষণায় এ পদ্ধতির প্রয়োগ, বিশ্বে এবারই প্রথম।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের গবেষক ড. এম এ আজিজ জানান, 'গাঙ্গেয় ডলফিন অল্প সময়ের জন্য থাকে, অন্য ডলফিনের তুলনায়। ফলে গাঙ্গেয় ডলফিনের জন্য এটা খুবই উপযুক্ত একটা পদ্ধতি। একেতো দেখাই যায় না। ফলে আমরা মনে করছি যে, এটা এমন একটা প্রযুক্তি হবে যেটা ভবিষ্যতে আমরা হয়তো রিপিট করতে পারব।'
এই ডলফিন ঘোলা পানিতে দেখে ন। চলাচলের সময় এটি টিকটিক, বিস্ফোরণ, কিচিরমিচির ও শিস- এই চার ধরনের শব্দ সৃষ্টি করে, যা সাঁতারের সময় আশপাশ সম্পর্কে তথ্য দেয়। কপালের ওপরে থাকা 'মেলন' নামের অংশটি খাবার, শত্রু, আনন্দ, উচ্ছাস সম্পর্কে জানায়। শুশুকের এসব প্রতিক্রিয়া এখন সহজেই পর্যালোচনা করা যাবে। এই পদ্ধতিতে ডলফিনের শব্দ তরঙ্গের ২৬টি বৈশিষ্ট লিপিবদ্ধ হয়েছে।
ড. এম এ আজিজ আরও বলেন, 'আমরা এই যন্ত্রের মাধ্যমে ডলফিনের ভাষাটা পড়ার চেষ্টা করছি। আমরা কিছু কিছু ইনডিকেশন পাচ্ছি, তার ভাষার কিছু কিছু সিগনেচার পাচ্ছি। সে যখন শিকারের পেছনে ছোটে তার শব্দগুলো একরকম, কম্পাঙ্কগুলো একরকম, তার মেগাহার্জ একরকম। সে যখন নিরাপদ একটা পরিবেশে থাকে তখন তার কম্পাঙ্ক একরকম, শব্দ একরকম।'
১৯৭০ সালে বুড়িগঙ্গা থেকে চারটি গাঙ্গেয় ডলফিন বা শুশুক গবেষণার জন্য জাপানে নেওয়া হয়েছিল। সেটিই ছিলো মিঠা পানির এই প্রাণীটিকে নিয়ে প্রথম গবেষণা।



