গণবৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হতে হবে আকাশ মনি ও ইউক্যালিপটাসের মতো বিদেশি আগ্রাসী গাছমুক্ত। দেশিয় দ্রুত বর্ধনশীল গাছ দিয়ে সরকারের সবুজায়ন পরিকল্পনা সফল করা সম্ভব। এতে ফল, কাঠ ও জ্বালানির চাহিদা মিটবে বলে মনে করেন পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী গবেষকরা।
গাছের সাথে বন্যপ্রাণের সম্পর্ক জন্ম থেকেই। এর ডালে আবডালে বাসা বানিয়ে প্রজন্ম এগিয়ে চলে। আবার আহারের যোগানটাও আসে এই গাছ থেকেই। প্রকৃতিকে টিকিয়ে রাখেতে বড় দায়িত্বটা পালন করে চলেছে এক পায়ে দাঁড়িয়ে। দিয়ে চলেছে বেঁচে থাকার উপাদান, সাথে সবুজ ছাতার ছায়া।
তবে দেশের এই সবুজের আস্তর প্রতিনিয়ত ক্ষয় হচ্ছে। সারা দেশে ১ লাখ ৬০ হাজার দখলদারের কব্জায় আছে প্রায় ৩ লাখ একর বনভূমি। পরিমাণটা দেশের মোট সংরক্ষিত বনের ৫৪ ভাগ।
এমন পরিস্থিতিতে সরকার হাতে নিয়েছে জাতীয় সবুজ মিশন। পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের বনায়ন হবে দেশে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, 'কক্সবাজার, বান্দরবান,ময়মনসিংহ, সিলেট ও অন্যান্য জেলাতে সরকারি অবক্ষয়িত বনভূমিতে ১ কোটি ৩০ লক্ষ চারা রোপণের মাধ্যমে পাহাড়গুলোকে সবুজে আচ্ছাদিত করা (আমাদের লক্ষ্য)। আমাদের বৈঠক হবে ১৫ (এপ্রিল) তারিখের ভেতর, যাতে করে আমরা মে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে বাংলাদেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ শুরু করতে পারি।'
গবেষকরা বলছেন, আশির দশকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পরামর্শে সারা দেশে ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি দিয়ে সামাজিক বনায়ন গড়ে তোলা হয়, যা ছিলো চরম পরিবেশ-বিধ্বংসী সিদ্ধান্ত। অবশ্য অন্তবর্তী সরকার এই গাছ বনায়নের জন্য নিষিদ্ধ করে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন জানান, এক হাজার বৃক্ষের মাঝে আমাদের অনেক গাছ আছে দ্রুত বর্ধনশীল। সেখানে আমরা বিদেশি গাছ থেকে মোটামুটি সারা বাংলাদেশকে ফ্লাডেড করে দিয়েছি। সেজন্য আমরা চাইব, নতুন কোনো পরিকল্পনা যখন হবে, সেটা হতে হবে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও তথ্যের ভিত্তিতে। তাহলেই কেবলমাত্র এই ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ দেশের জন্য উপকারী হবে।
বন্যপ্রাণী গবেষক আশিকুর হমান সমী বলেন, ‘যখন বিদেশি গাছগুলো লাগানো হলো তখন এই বিপন্ন বন্যপ্রাণী বা...বিশেষায়িত বন্যপ্রাণী তাদের একটি বড় অংশ হারিয়ে যাওয়া শুরু করল।’
দেশীয় গাছনির্ভর বনায়নে সারা দেশে সবুজ বিপ্লব সম্ভব। গবেষকরা আরও বলছেন, স্থানীয়দের নিয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কাজ করতে হবে।
বন্যপ্রাণী গবেষক ড. মোহাম্মদ আলী রেজা খান বলেন, কোন সব উদ্ভিদের মধ্যে প্রজাপতি বেশি আসে, মৌমাছিরা মধু সংগ্রহ করতে আসে, বা পাখিরা সেখান থেকে মধু খায়; বা কাঠবিড়ালি, বানর, হনুমান এবং রাতের বেলা গন্ধগোকুল, ভাম, কিংবা বাঁশ ভালুক (বিয়ার ক্যাট)- তারা কোনগুলো খায়, সেগুলোকে লাগাতে হবে।
২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি সবুজ ও জীববৈচিত্র্যময় রাষ্ট্র করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তাই শুরুতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ২১ হাজার ৫৭১ কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়কের দুই ধারে বনায়নের পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা।



