দই অনেকের পছন্দের খাবার। দইকে বলা হয় প্রাকৃতিক প্রোবায়োটিক। প্রোবায়োটিক দুগ্ধজাত পণ্য হওয়ার কারণে দই অন্ত্রের জন্য উপকারী। দইতে থাকা ব্যাকটেরিয়া বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে।
দইয়ের স্বাস্থ্য উপকারিতার অনেক। ছয় আউন্স কম চর্বিযুক্ত দইতে থাকে ক্যালোরি ১০৭, প্রোটিন ৮ দশমিক ৯২ গ্রাম, চর্বি ২ দশমিক ৬৪ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ১২ গ্রাম, চিনি ১২ গ্রাম, ফাইবার শূন্য গ্রাম, কোলেস্টেরল ১০ দশমিক ২ মিলিগ্রাম (মিগ্রা), ক্যালসিয়াম ৩১১ মিলিগ্রাম।
দইতে পাওয়া উচ্চ মাত্রার ক্যালসিয়াম এবং প্রোটিন ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং আপনাকে অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত রাখতে পারে। খাবারের আগে দই খেলে তা অতিরিক্ত খাওয়া রোধ করতে পারে। দইয়ের প্রোটিন রক্তে শর্করাকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।
আসুন জেনে নিন, অন্ত্রের স্বাস্থ্য, ওজন এবং হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে দই খাওয়ার সঠিক সময় কখন?
১. অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য দই খাওয়ার সঠিক সময় খাবারের ত্রিশ মিনিট আগে। দইতে প্রোবায়োটিক থাকে, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে। বিশেষ করে দইতে ল্যাকটোব্যাসিলাস, স্ট্রেপ্টোকক্কাস এবং বিফিডোব্যাকটেরিয়াম থাকে। খাবারের সাথে বা তার ৩০ মিনিট আগে দই খেলে প্রোবায়োটিকগুলি অন্ত্রে পৌঁছাতে পারে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের সাথে অথবা খাবারের ৩০ মিনিট আগে গ্রহণ করলে ল্যাকটোব্যাসিলাসের অন্ত্রে পৌঁছানোর সম্ভাবনা বেশি থাকে। অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য দই খাওয়ার সবচেয়ে খারাপ সময় হল খাবারের ৩০ মিনিট পরে। খাবারের ৩০ মিনিট পরে দই খেলে ল্যাকটোব্যাসিলাস বেশি পরিমাণে বেঁচে থাকতে পারে না, কারণ হজমের সময় পাকস্থলীর অ্যাসিড বৃদ্ধি পায়, যা অন্ত্রে পৌঁছানোর আগেই প্রোবায়োটিক ধ্বংস করে দেয়।
২. দই ওজন কমাতে সহায়তা করে। ওজন কমানোর জন্য দই খাওয়ার সঠিক সময় হলো খাবারের আগে। দইতে থাকা উচ্চ মাত্রার ক্যালসিয়াম এবং প্রোটিন ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে এবং অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত রাখে। খাবারের আগে দই খেলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকা যায়। অস্বাস্থ্যকর খাবার কিংবা মিষ্টির পরিবর্তে দই খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।
সকালের নাস্তায় দই ক্ষুধা কমাতে সহায়তা করতে পারে। দইয়ের প্রোটিন রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করেন, তারা মিষ্টি ছাড়া দই বেছে নিন। চিনি-মিষ্টিযুক্ত দই ওজন বৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারে।
৩. হাড়ের স্বাস্থ্য, পেশী পুনরুদ্ধার এবং শক্তি বৃদ্ধির জন্য ব্যায়ামের পরে দই চমৎকার খাবার হতে পারে। দিনের যে কোনো সময় দই খেলে শক্তিশালী হাড় তৈরিতে সাহায্য করতে পারে। যারা বেশি দই খান তাদের হাড়ের খনিজের ঘনত্ব ভালো থাকে। দইতে ক্যালসিয়াম থাকে, যা হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য একটি অপরিহার্য উপাদান। দইয়ের ভিটামিন ডি, প্রোটিন এবং প্রোবায়োটিকস হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্যও সহায়ক। বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন দুই থেকে তিন কাপ কম চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন। ব্যায়ামের পর দই খাওয়া যেতে পারে। তাই ব্যায়ামের পর দই খেলে শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করা যায় এবং সামগ্রিক সুস্থতা বজায় থাকে। এতে হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। তথ্যসূত্র: ভেরিওয়েল হেলথ



