কনকনে ঠান্ডায় বেড়েছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে শিশু ও বয়স্করা। রোগীর সংখ্যা বাড়ায় হাসপাতালে শয্যা সংকটে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। ভর্তি হতে না পেরে অনেককে ফিরে যেতে হচ্ছে। কোথাও আবার ওষুধ ও জনবল সংকটের অভিযোগ রয়েছে।
প্রচন্ড শীত আর হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত জনজীবন। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকগুণ বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা।
মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রয়েছে মাত্র ২২টি শয্যা। কিন্তু শীতজনিত জ্বর, কাঁশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছেন ৫০ জনেরও বেশি। শয্যা সংকটে অনেক রোগী ভর্তি হতে পারছে না হাসপাতালে। প্রয়োজনের তুলনায় বেড অপ্রতুল হওয়ায় ভোগান্তি চরমে বলে জানিয়েছেন অভিভাবক, নার্স ও চিকিৎসকরা।
হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে গত ছয় দিনে (১ থেকে ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত) ৫০০'র বেশি রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে অধিকাংশই ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। এই সময়ে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
ভুক্তভোগী এক শিশুর আত্মীয় জানান, আমাদের সিটের সংকীর্ণতা, ছিট নাই। যার কারণে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। গতকালও একই অবস্থা ছিল।
তীব্র শীতে লক্ষ্মীপুরে বেড়েছে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার প্রকাপ। প্রতিদিনিই ৭০ থেকে ৮০ জন রোগী শুধু সদর হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। হাসপাতালে বেডের তুলনায় ৬ গুণ রোগী ভর্তি হচ্ছে। রোগ থেকে রক্ষায় আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ চিকিৎসকদের।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মো. ইছমাইল হাসান বলেন, 'নবজাতকদেরকে ক্ষেত্রে ওদেরকে গরম রাখতে হবে। অন্য সময়ের চেয়েও এখন যেটা বেশি সতর্কতা প্রয়োজন সেটা হচ্ছে, বাসায় দরজা-জানালা বন্ধ রাখবে- ঠাণ্ডা বাতাস যেন না আসে। ওদেরকে মাথায় প্রয়োজনে কানটুপি পরাবে, হাতেপায়ে মোজা পরাবে। আর বড় বাচ্চাদের ক্ষেত্রেও শীত থেকে বাঁচার জন্য প্রয়োজনীয় শীতের কাপড়গুলো পরাবে।'
শিশুদের অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়া, শীতবস্ত্র পরিধান করা এবং পচা ও বাসি খাবার না খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকদের।



