হাম ও উপসর্গে মাত্র ৬ মাসেই হাজার মৃত্যুর স্বাক্ষী হলো দেশ, যাদের প্রায় সবাই শিশু। এর আগে কখনো, ভাইরাসবাহিত এ রোগে এক বছরে এতো মৃত্যু হয়নি। আজ বুধবারও হামের উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের, একদিনে আক্রান্ত ১ হাজার ১৮৮; এখনও গড়ে প্রতিদিন হাজার শিশু আক্রান্ত হওয়ায় উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞরা। দ্রুত সব শিশুকে টিকা দেওয়া এবং শিশুর অপুষ্টি রোধে বিশেষ কার্যক্রমের তাগিদ তাদের।
দেশে হাম পরিস্থিতির অবনতি শুরু হয় ১৫ মার্চ। মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই হামের উপসর্গে শতাধিক মৃত্যুর তথ্য সামনে আসায় নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
এপ্রিলের শুরুতেই প্রথমে সংক্রমিত এলাকায় এবং পরে দেশব্যাপি ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী সব শিশুকে হামের টিকা দেওয়া শুরু হয়। শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে খাওয়ানো হয় ভিটামিন এ ক্যাপসুল।
তবে এতো উদ্যোগের পরও কমছে না হামের সংক্রমণ। সেপ্টেম্বরের প্রথম ৯ দিনেই মারা গেছে ২৯ জন। হাম ও এর উপসর্গে নতুন রোগীর সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি। মোট সংখ্যা ১০ হাজার ১৮১।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে হামের প্রাদুর্ভাব থামানো যাবে না। টিকা না পাওয়া শিশুদের চিহ্নিত করে একটি শিশুও যেন টিকার বাইরে না থাকে তা নিশ্চিত করার তাগিদ তাদের।
শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মির্জা জিয়াউল ইসলাম বলেন, ‘একটা পুষ্টিহীন মানুষকে টিকা দিলে; টিকা দিয়ে আমরা কী আশা করি তার দেহে অ্যান্টিবডি তৈরি হবে। এখন যার দেহে পুষ্টিহীনতা, তার কিন্তু অ্যান্টিবডি তৈরি হতে অনেক বেশি সময় লাগবে। শুধু টিকা নয়, নিশ্চিয় আরও অনেক ফ্যাক্টর রয়েছে। যে ফ্যাক্টরগুলোর কারণে এই হাম হচ্ছে। এ ফেক্টরগুলো বের করতে আমাদের অনেক গবেষণা লাগবে।’
জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, ‘হিসাবের বাইরেও অনেক শিশু রয়ে গেছে। যেমন; চল্লিশ লাখ পথশিশু, তারা টিকা পায়নি। বস্তিবাসী শিশুদের একটা বড় অংশ হিসাবের বাইরে। গার্মেন্টস শ্রমিকদের যারা প্রায়ই চাকরি পরিবর্তন করে তাদের একটি অংশ শিশু হিসাবের বাইরে। পতিতালয়ে জন্ম নেওয়া শিশুদের একটা অংশ হিসাবের বাইরে। এদেরকেও হিসাবের মধ্যে এনে টিকাদানের ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে কিন্তু মৃত্যুর মিছিল থামানো যাবে না।’
সম্প্রতি বেশ কিছু গবেষণায় দেখা যায়, হামে আক্রান্ত শিশুদের ৬৫ শতাংশই অপুষ্টির শিকার। আর মারা যাওয়া শিশুদের ৮২ শতাংশই প্রথম ৬ মাস পরিপূর্ণ মায়ের দুধ পায়নি।



