সথবিজ নামের বিখ্যাত নিলাম প্রতিষ্ঠান ১৯৮৪ সালের ঐতিহাসিক বারকিন ব্যাগটি প্যারিস ফ্যাশন আইকনস বিক্রির অংশ হিসেবে নিলামে তুলবে। এটি শুধুমাত্র একটি ব্যাগ নয়, এতে লুকিয়ে আছে এক অনন্য গল্প, দীর্ঘ ইতিহাস এবং জেন বারকিনের স্পর্শ।
আপনার কাছে অর্থ থাকলেও আপনি চাইলেও কিনতে পারবেন না বারকিন ব্যাগ। কিন্তু গায়িকা ও অভিনেত্রী জেন বারকিনের জন্য তৈরি করা আসল হারমেস বারকিন ব্যাগটি এবার নিলামে উঠতে যাচ্ছে। যা এবার কিনতে পারবেন যে কেউ। ১০ জুলাই ‘প্যারিস ফ্যাশন আইকনস’ শিরোনামের বিশেষ এক নিলামে এই ব্যাগটি বিক্রি করা হবে।
বারকিন ব্যাগ বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ডিজাইনগুলোর একটি। এর বিশেষত্ব এমন যে, যারা খুব সহজেই যেকোনো জিনিস কিনতে পারেন, তাদের কাছেও এই ব্যাগ সহজলভ্য নয়।

বিখ্যাত এই ব্যাগের পেছনের গল্পটা ঠিক যেন সিনেমার মতো। হারমেসের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ১৯৮৪ সালে প্যারিস থেকে লন্ডনগামী একটি বিমানে জন্ম নেয় এই ব্যাগের ধারণা। ফ্লাইটে ব্রিটিশ অভিনেত্রী জেন বারকিনের পাশে বসেছিলেন হারমেসের তৎকালীন চেয়ারম্যান জঁ-লুই ডুমা। জেন বলছিলেন, একজন তরুণ মায়ের প্রয়োজনের মতো উপযুক্ত ব্যাগ খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি। তখনই ডুমা কাগজে একখানা স্কেচ করেন। স্কেস করেন একটা নরম, চওড়া, আয়তাকার ব্যাগ। যার ঢাকনায় থাকবে সেলাইয়ের নিখুঁত কারুকাজ আর ভেতরে শিশুর দুধের বোতলের জন্য থাকবে আলাদা জায়গা। সেখান থেকেই জন্ম নেয় বারকিন ব্যাগ।
১৯৯৪ সালে এই বিশেষ ব্যাগটি জেন বারকিন নিলামে তুলেছিলেন এইডস রোগীদের সাহায্যের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে। পরে ২০০০ সালে ব্যাগটি আবার নিলামে বিক্রি হয়। সেই থেকে এটি আছে এক সংগ্রাহকের কাছে, যিনি ইনস্টাগ্রামে ‘ক্যাথরিন বি’ নামে পরিচিত। তাঁর প্রোফাইল বায়োতেই লেখা, তিনি প্রথম হারমেস বারকিন ব্যাগের ‘গর্বিত মালিক’।
নিলামের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাগটির সঙ্গে দেওয়া হবে মূল নথিপত্র। যার মধ্যে রয়েছে ১৯৯৪ সালের ৫ অক্টোবর তারিখে জেন বারকিনের স্বাক্ষর করা দাতব্য নিলামের সনদপত্র (লে অঁশের দ্য ল’এসপোয়ার)। ২০০০ সালের ১২ মে অনুষ্ঠিত ওতেল দে ভঁত দ্য পালের নিলাম ক্যাটালগ। এছাড়াও ২০২০ সালে ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড আলবার্ট মিউজিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘ব্যাগস: ইনসাইড আউট’ প্রদর্শনীর ক্যাটালগ।
সথবির হ্যান্ডব্যাগ ও ফ্যাশন বিভাগের গ্লোবাল প্রধান মরগান হালিমি বললেন, ‘এই ব্যাগ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই, এটি একেবারেই অনন্য। ফ্যাশনের ইতিহাসে এমন নিদর্শন বিরল। একসময়ের ব্যক্তিগত ব্যবহার্য এই ব্যাগ এখন বিশ্বজুড়ে পপ কালচারের অংশ হয়ে উঠেছে। বিলাসিতার সবচেয়ে পরিশীলিত প্রতীক এখন এই বারকিন ব্যাগ।’
ব্যাগটি ঠিক সেই অবস্থায় রাখা হয়েছে, যেভাবে জেন বারকিন এটি ব্যবহার করতেন। কোনো পরিবর্তন বা নতুন কোনো সাজসজ্জা করা হয়নি। তাই এটি সম্পূর্ণ আসল অবস্থাতেই থাকবে।
জেন বারকিন আগেই হেরমেসকে অনুরোধ করেছিলেন, তার নামটি বিখ্যাত ‘বারকিন’ ব্যাগের ক্রোকোডাইল চামড়ার সংস্করণ থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য কাট’-এর এক প্রতিবেদনে জেন জানিয়েছেন, ‘ক্রোকোডাইলের বিরুদ্ধে যে নিষ্ঠুরতা চালানো হয়, তা জানতে পেরে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘হেরমেসকে আমি অনুরোধ করেছি, যতদিন না আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী প্রাণী কল্যাণ নিশ্চিত হয়। সেই পর্যন্ত আমার নাম ‘বারকিন ক্রোকো’ ব্যাগ থেকে তুলে নেওয়া হোক।’


টি-রেক্সের চামড়ার ব্যাগ, ভবিষ্যতের বিলাসিতা কি এমনই হবে?
কেলি ব্যাগ যেভাবে হয়ে উঠল ফ্যাশনের আইকন
