সাংবাদিক পেটানো ও নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তাঁরা হলেন, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী ও ঝিনাইদহ-১ আসনের আব্দুল হাই। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করার বিষয়ে রোববার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।
গত ৩০ নভেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় প্রশ্ন করায় ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রতিবেদক রাকিব উদ্দিনকে মারধর করেন চট্টগ্রাম-১৬ আসনে নৌকার প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। এ অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
এদিকে, ঝিনাইদহ-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধেও মামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোববার ইসির উপসচিব মো. আতিয়ার রহমানের সই করা চিঠিতে স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তাকে মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, নির্বাচনি বিধিমালা লঙ্ঘন করে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মিছিল করে জনমনে ভীতিকর অবস্থার সৃষ্টি করেছেন আব্দুল হাই।
স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তাঁর এজেন্টদের বিরুদ্ধে হুমকি ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে ঝিনাইদহ-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে। এসব কারণে আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। ভোটের প্রচারে নামার পর থেকে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া, মারধর ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। শনিবার নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেন, কয়েকটি এলাকায় সংঘর্ষের তদন্ত প্রতিবেদনের দাখিলের পর প্রার্থিতা বাতিলের মতো কঠোর সিদ্ধান্তও আসতে পারে।
সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপার বিতরণ। প্রথমদিন ১৩ জেলায় পাঠানো হবে ব্যালট পেপার। ভোটগ্রহণের জন্য সব প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। এবারই প্রথমবারের মতো ভোটের দিন সকালে কেন্দ্রে কেন্দ্রে যাবে ব্যালট পেপার।
এদিকে রোববার নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেছেন, এখনো আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কারও প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়নি। বিএনপি যদি ভোটে আসতো নাশকতার ঘটনা হতো না, পরিবেশ থাকতো স্বাভাবিক।


২ ঘণ্টা পর পর কত শতাংশ ভোট হলো তা দেখানো হবে: সিইসি
