নার্সিং পাসের পর পরীক্ষা দিয়েই সনদ নিতে হয়। আইনজীবীদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম রয়েছে। তবে চিকিৎসকেরা এমবিবিএস-বিডিএস পাস করেই পেয়ে যান বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সনদ। এবার এমবিবিএস পাসের পর বিএমডিসির সনদ নিতে আলাদা পরীক্ষার কথা ভাবছে বিএমডিসি। পাশাপাশি বিএমডিসি সনদ নবায়েনও পরীক্ষার ব্যবস্থা চালু করতে পারে সংস্থাটি।
বিএমডিসি বলছে, এসব প্রক্রিয়া চালু হবে কয়েক ধাপে। এ নিয়ে এরইমধ্যে আলোচনা হয়েছে স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনেও।
দেশে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে মেডিকেল কলেজ ১০৪টি। প্রতি বছর এমবিবিএস পাস করেন ১১ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। চিকিৎসক হিসেবে পেশা শুরুর আগে নিতে হয় বিএমডিসির সনদ। দেশে কিছু বেসরকারি মেডিকেল কলেজের মান নিয়ে আছে অনেক প্রশ্ন। রাজনৈতিক ও নানা সুবিধায় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে তারা। কিন্তু বছর শেষে ভালো-মন্দ সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যুক্ত হচ্ছেন এই পেশায়। এবার এর রাশ টানতে চায় বিএমডিসি। সনদ নেওয়ার আগে দিতে হবে পরীক্ষা। যা অনেক দেশেই চালু আছে।
বিএমডিসির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডা. লিয়াকত হোসেন বলেন, ‘নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রেই বলে দেওয়া হবে যে, মেডিকেল পড়াশোনা শেষের পর চিকিৎসকের বিএমডিসি সনদ নিতে নতুন করে আরেকটি পরীক্ষা দিতে হবে। এতে করে এই পদ্ধতি চালু করতে কোনো বেগ পেতে হবে না।’
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. নিজাম উদ্দীন আহম্মেদ বলেন, ‘চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে সারা বিশ্বেই এমন লাইসেন্সের পরীক্ষা চলমান। তবে আমাদের দেশেই শুধু নেই। চিকিৎসার মান উন্নয়নে এই পরীক্ষা চালু করা জরুরি। এতে করে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ কমে আসবে। কারণ একজন চিকিৎসককে সব ধরনের পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ণ হয়েই এই পেশায় আসতে হবে।’
ডা. লিয়াকত হোসেন বলেন, ‘বিএমডিসি সনদ নিতে এবং নবায়নে পরীক্ষা পদ্ধতি চালু হলে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ জন্মাবে। এবং সবাই চিকিৎসা শাস্ত্র নিয়ে একটা চিন্তাচেতনার মধ্যে থাকবে। হালনাগাদ জ্ঞান অর্জনের জন্য সবার মধ্যেই একটা তাগিদ থাকবে।’
দেশে বিএমডিসির নিবন্ধিত চিকিৎসক ১ লাখ ৩৮ হাজার। প্রতি পাঁচ বছর পর সনদ নবায়ন করতে হয়।



