রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরানোর আশা এখন তলানিতে। শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনও বলছে, দিন দিন জটিল হচ্ছে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া। এমন বাস্তবতায় রোহিঙ্গাদেরই বিশ্বমঞ্চে যাওয়ার মতো নেতৃত্ব গড়তে হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। এতে আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ সহজ হবে।
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতন দু-চার-পাঁচ বছরের নয়। এ ইতিহাস শত বছরের। মাতৃভূমিতেই তারা পরিচয়হীন। এরই জেরে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবির।
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট, রাখাইনে নির্মম নির্যাতন ও গণহত্যার মুখে লাখ লাখ বাসিন্দা কক্সবাজারে পালিয়ে আসে। এরপর কেটে গেছে আট বছর। আন্তর্জাতিক তৎপরতা, জাতিসংঘের নানা উদ্যোগেও প্রত্যাবাসনে কার্যকর কিছু হয়নি। এরমধ্যেই সশস্ত্র বিদ্রোহে লণ্ডভণ্ড মিয়ানমার। ফলে রোহিঙ্গাদের নিজদেশে ফিরে যাওয়াটাও অনিশ্চয়তার মুখে।
শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান বলেন, দিন-দিন জটিল হচ্ছে রোহিঙ্গাদের ফেরানোর প্রক্রিয়া। সবকিছুর পরও প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখছে বাংলাদেশ।
মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের সক্ষমতার মধ্যে সবকিছুই করা হচ্ছে। বাকিটার সমাধান বাংলাদেশের হাতে নেই। রাখাইন এখানে মূল বিষয়। এর বাইরে আছে রোহিঙ্গারা নিজেরা।
রোহিঙ্গারা মূলত আঞ্চলিক স্বার্থ ও ভূ-রাজনীতির বলি হচ্ছে। অস্থিত্ব রক্ষায় তাদেরই এগিয়ে আসতে হবে বলে মত বিশ্লেষকদের। এজন্য গড়তে হবে, বিশ্বমঞ্চে আওয়াজ তোলার মতো নেতৃত্ব।
অভিবাসন ও শরণার্থী বিষয়ক বিশ্লেষক আসিফ মুনীর বলেন, জনসংখ্যা যত বাড়বে, চাপ তত বাড়তেই থাকবে। রোহিঙ্গারা নিজেরা এগিয়ে এলে বিভিন্নজন সহাতয়তার চেষ্টা করতে পারে।
সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চলেছে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার জন্যই। তাই এ সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এগিয়ে আসতে আরও দেরি করলে, ইতিহাসে শুধু রোহিঙ্গা নামটিই রয়ে যাবে বলে শঙ্কা বিশ্লেষকদের।



