সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। আজ শনিবার এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৬ সদস্যের নিথর দেহ।
আজ নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে নিহত ৬ শান্তিরক্ষীর মরদেহ দেশে ফেরার বিষয়টি জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
ঢাকা বিমানবন্দরে মরদেহগুলো গ্রহণ করেন সেনাবাহিনীর চিফ অফ জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম। মরহদেহ গ্রহণের সময় বিমানবন্দরে নীরবতা পালন করেন সেনা সদস্যরা। এরপর কফিনগুলো সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সুদানে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত সেনা সদস্যরা হলেন: কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা, এএসসি (নাটোর), সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম, বীর (কুড়িগ্রাম), সৈনিক শামীম রেজা, বীর (রাজবাড়ী), সৈনিক শান্ত মন্ডল, বীর (কুড়িগ্রাম), মেস ওয়েটার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (কিশোরগঞ্জ) ও লন্ড্রি কর্মচারী মো. সবুজ মিয়া (গাইবান্ধা)।
আইএসপিআর জানিয়েছে, আগামীকাল রোববার ঢাকা সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে নিহত শান্তিরক্ষীদের নামাজে জানাজা। এরপর আগামীকালই হেলিকপ্টার যোগে সেনাদের মরদেহগুলো নিজ নিজ ঠিকানায় তাঁদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে এবং সেখানেই যথাযথ সামরিক মর্যাদায় তাঁদের দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
এর আগে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় শান্তিরক্ষীদের মরদেহ বহনকারী বিমানটি বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় উগান্ডার এন্টেব বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৩ ডিসেম্বর সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতাধীন কাদুগলি লজিস্টিক বেসে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৬ জন সদস্য নিহত হন। এছাড়া হামলায় আহত হন আরও ৯ সেনা সদস্য।
আহতদের মধ্যে ৮ জন বর্তমানে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবির আগা খান ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে (লেভেল–৩ হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁরা সকলেই শঙ্কামুক্ত আছেন বলে আইএসপিআর জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সাল থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন 'ইউনাইটেড নেশনস ইন্টারিম সিকিউরিটি ফোর্স ফর আবেই'-তে বাংলাদেশের একটি ব্যাটালিয়ন মোতায়েন রয়েছে।



