মিয়ানমার সীমান্তে পরপর দুই দিন এক শিশুসহ বাংলাদেশি নাগরিক হতাহত হওয়ার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকরা সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাননি।
গত রোববার মিয়ানমারের ওপার থেকে ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত হয় টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ এলাকার শিশু আফনান। বর্তমানে শিশুটি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এর ঠিক পরের দিন সোমবার, একই ইউনিয়নের লম্বাবিল এলাকায় আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে মো. হানিফ নামের এক ব্যক্তির পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তিনিও বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পরপর দুই দিন সীমান্তে এভাবে বাংলাদেশি নাগরিকরা আক্রান্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো কড়া প্রতিবাদ বা প্রতিক্রিয়া জানাবে কি না—তা জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘এই মুহূর্তে এ বিষয়ে কিছু বলব না। আগামী বুধবার নির্ধারিত ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত কথা হবে।’
টেকনাফ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। সীমান্তের ওপারের এই সংঘাতের রেশ বাংলাদেশে আছড়ে পড়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগেও গত বছরের ১২ অক্টোবর রেজু আমতলী সীমান্তে টহল দেওয়ার সময় আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে আক্তার হোসেন নামের এক বিজিবি সদস্য গুরুতর আহত হন। ১৯ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
সম্প্রতি ওপারে সংঘাতের জেরে প্রাণভয়ে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন অন্তত ৫৩ জন রোহিঙ্গা সশস্ত্র সদস্য। বর্তমানে তাঁরা পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। সীমান্তের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।।


সীমান্তে আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশির পা বিচ্ছিন্ন
টেকনাফ সীমান্তে গুলিবিদ্ধ সেই শিশুটি বেঁচে আছে
