রোমানিয়ায় অবৈধভাবে বসবাসরত বাংলাদেশি কর্মীদেরকে বৈধভাবে বসবাসের সুযোগ দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়েছে দেশটি। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বুখারেস্টে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।
এতে বলা হয়, ২৭ এপ্রিল প্রকাশিত রোমানিয়ার সরকারি জরুরি গেজেট অনুযায়ী, নন-ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ থেকে আগত যেসব বিদেশি কর্মী বিভিন্ন কারণে অবৈধ অবস্থায় চলে গেছেন, তাদের জন্য শর্তসাপেক্ষে বৈধ হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ দূতাবাস এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছে, কারণ এর ফলে অবৈধভাবে বসবাসরত বহু বাংলাদেশি কর্মী তাদের অবস্থান বৈধ করার সুযোগ পাবেন।
এতে বলা হয়, বিশেষ করে, যেসব কর্মী বৈধভাবে রোমানিয়ায় প্রবেশ করার পর অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে অবৈধ হয়ে পড়েছেন, তারা এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি ওয়ার্ক ভিসায় রোমানিয়ায় প্রবেশ করার পর সংশ্লিষ্ট কোম্পানি তাকে নিয়োগ দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং ৯০ দিনের মধ্যে নতুন কোনো নিয়োগকর্তা খুঁজে না পান, তাহলে তিনি স্বাভাবিকভাবেই অবৈধ অবস্থায় পড়েন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এছাড়া, এমন অনেক ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান কর্মীর বেতন থেকে ট্যাক্স কেটে নিলেও তা সরকারকে জমা দেয় না, অথবা সময়মতো কিংবা সঠিকভাবে টিআরসি আবেদন সম্পন্ন করে না। এর ফলেও অনেক কর্মী অনিচ্ছাকৃতভাবে অবৈধ হয়ে পড়েন।
এতে বলা হয়, এই প্রেক্ষাপটে, বৈধভাবে প্রবেশ করে পরবর্তীতে অবৈধ হয়ে যাওয়া কর্মীরা রোমানিয়ার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের শরণাপন্ন হতে পারেন। নতুন আইন শুরুর ৬০ দিনের মধ্যে ইতোমধ্যে অবৈধ হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের রোমানিয়া ইমিগ্রেশনে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে তাদের অবশ্যই একটি নতুন ও বৈধ নিয়োগকর্তা খুঁজে নিতে হবে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অধীনে ওয়ার্ক পারমিট সংগ্রহ করতে হবে এবং পরবর্তীতে টিআরসি কার্ডের জন্য আবেদন করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যেহেতু এ ব্যবস্থা নতুন, তাই প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু জটিলতা দেখা দিতে পারে। সে কারণে প্রয়োজনে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এতে বলা হয়, যেসব ব্যক্তি ইতোমধ্যে ‘রিটার্ন ডিসিশন’ (দেশত্যাগের নির্দেশ) পেয়েছেন বা যারা অবৈধভাবে রোমানিয়ায় প্রবেশ করেছেন, তারা এই সুবিধার আওতায় পড়বেন না। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে রোমানিয়ার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত এ সুযোগটি বলবৎ থাকবে।



