আজ পয়লা মে। শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দিন। ১৪০ বছর আগের শ্রমবাজার ও শ্রমিকের ধরণ পাল্টালেও তাদের উন্নত জীবনের সুবিধা নিশ্চিত করা যায়নি। শ্রমিক নেতারা বলছেন, শিল্প প্রতিষ্ঠানে সংগঠনের দ্বন্দ্ব ও বিভাজনে শ্রমিক আন্দোলন সফল হচ্ছে না। শিক্ষায় এগিয়ে থাকলেও অধিকারে পিছিয়ে দেশের শ্রমিকরা।
কর্মস্থলে কাজের সময় ৮ ঘণ্টার দাবিতে ১৮৮৬ সালে আমেরিকার হে মার্কেটে বিদ্রোহ। সেই শ্রমিক আন্দোলন দমাতে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, গুলি, শ্রমিক হত্যার বিনিময়ে সারা বিশ্বে প্রতিষ্ঠা পায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রতিদিনের কাজের সময়সীমা হবে ৮ ঘণ্টা।
এরপর ১৪০ বছরে বিশ্বে শিল্প, যোগাযোগ খাতের আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশেও বদলেছে শ্রম ও শ্রমিকের ধরণ। স্বাধীনতা উত্তর রাষ্ট্রয়াত্ব পাট, চিনি, কাগজ শিল্পের শ্রমিকদের চেয়ে এখন পোশাক শ্রমিকের সংখ্যা বেশি। আছে চা শ্রমিকও। বেড়েছে আউট সোর্সিং শ্রম। নগর থেকে মফস্বলে রিকশা, অটো রিকশা, হোটেল-রেস্টুরেন্টের শ্রমিকসহ ভাসমান শ্রমিক দিন দিন বেড়েই চলেছে।
সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, শিক্ষায় তারা এগিয়ে, কিন্তু অধিকারে পিছিয়ে। কাজের নিশ্চয়তা তাদের নেই। তাদের শুধু অনিশ্চিত জীবনের নিশ্চয়তা আছে।
দেশের সব রাজনৈতিক দলেরই শ্রমিক সংগঠন আছে। তবে, অধিকার আদায়ের বাস্তাবায়নে পিছিয়ে পড়ছেন শ্রমিকরা। সেই সাথে নিজেদের মধ্যে আদর্শিক দ্বন্দ্ব ও সংগঠনিক বিভক্তিতে ব্যর্থ হচ্ছে শ্রমিক আন্দোলন।
গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান শামীম বলেন, এই বিভাজনে মালিক ও সরকার– দুই পক্ষেরই লাভ। বিভাজনের কারণে শ্রমিকদের আইনগত পাওনা থেকে ঠকানো যায়, মজুরি কম দেওয়া যায়। এতে অধিক মুনাফা করতে পারে মালিকেরা।
সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, সরকার মালিকদের স্বার্থ রক্ষা করে, মালিকরা মুনাফা বাড়ানোর চেষ্টা করে, আর বিদেশি এনজিওগুলো শ্রমিক আন্দোলনকে স্তমিত করে রাখার চেষ্টা করে। এই তিন চক্রে পড়ে ট্রেন ইউনিয়ন গতি ও গন্তব্য হারিয়েছে।
শ্রমিক নেতার বলছেন, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম পে স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে নতুন বেতন কমিশন। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও মজুরি কাঠামো বাস্তাবয়নের দাবি জানান তারা।



