কৌশলগত কারণে ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ক গভীর হয়েছে; এমন মূল্যায়ন বিশেষজ্ঞদের। বলছেন, সবার আগে বাংলাদেশ নীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে বৈদেশিক সম্পর্ক বজায় রাখছে সরকার। তবে অভ্যন্তরীণ নীতি নির্ধারণে স্বকীয়তা বজায় রাখার পরামর্শ তাদের। ভারত ও পাকিস্তানের সাথে বৈরিতা বা অতি বন্ধুত্ব নয়, জাতীয় স্বার্থ মাথায় রেখে চলার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
বিশ্ব রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা অনেক বেড়েছে। বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত ও মধ্যম আয়ের দেশের ওপর প্রভাব বিস্তারে সক্রিয় শক্তিশালী দেশগুলো।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র। অন্তর্বর্তী সরকারের করা চুক্তির ফলে ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ক আরো নিবিড় হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণে জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মূল যে রাষ্ট্রগুলো– আমেরিকা, চীন, ভারত বা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে তৈরি হয়েছে; এসব ক্ষেত্রে সরকার একটা ভারসাম্য রেখে চলার চেষ্টা করছে। যেকোনো জায়গায়, আন্তর্জাতিক ফোরামে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে সরকার কাজ শুরু করেছে।
আওয়ামী লীগ আমলে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল ভারত। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক উন্নত হয়। সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান বলছেন, ভারত ও পাকিস্তানের সাথে বৈরিতা বা অতি বন্ধুত্ব নয়, জাতীয় স্বার্থ মাথায় রেখে চলতে হবে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক অন্য কোনো দেশ বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নিরিখে করা উচিত নয়। যদি এটা করতে যাই, সেটা অসম; বিচারের জায়গায় ত্রুটি দেখা দেবে। এতে উভয় দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নষ্ট হবে।
ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তি পুনর্মুল্যায়নের তাগিদও দেন বিশেষজ্ঞরা। ভবিষ্যতে বৈদেশিক চুক্তির ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সতর্ক থাকারও পরামর্শ তাদের।
সবার সাথে সু সম্পর্ক বজায় রেখে বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতিতে চলছে বর্তমান সরকার। বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধীকার দেয়ার পাশাপাশি কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে পারলে আগামী দিনে অর্থনীতি ও জাতীয় মর্যাদার ক্ষেত্রে আরও শক্ত অবস্থোনে পৌছাবে বাংলাদেশ।



