ধর্ম চর্চাকারীরা ধর্ম ব্যবসায়ীদের সঠিকভাবে চিনতে পারলে ধর্মচর্চা স্বার্থক হবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। শুক্রবার বেলা ১২টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বরিশাল জেলার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের ধর্মচর্চা তখনই স্বার্থক হবে যখন আমরা ধর্ম চর্চাকারীরা ধর্ম ব্যবসায়ীদেরকে সঠিকভাবে চিনতে পারব। আমরা যে যার ধর্মকে কঠিনভাবে চর্চা ও বিশ্বাস করব। সেই কারণেই আমরা সকল ধর্মকে সমানভাবে শ্রদ্ধা করব। যখনই আপনার, আমার ধর্ম বিশ্বাস, চর্চাকে কোনো মহল সূক্ষ্মভাবে একটি সাম্প্রদায়িক পকেটে পরিণত করার জন্য চক্রান্ত করবে সঙ্গে সঙ্গে ধর্মপ্রাণ মানুষ ওই ধর্মব্যবসায়ীকে চিহ্নিত করবেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, পাহাড়ি গোষ্ঠী, সমতলের গোষ্ঠী, ভাষা, বর্ণ, লিঙ্গ এবং ধর্ম কোনো কিছুর ভিত্তিতেই বাংলাদেশে মানুষের মধ্যে কোনো ধরনের বিভেদ–বিভাজন তৈরির প্রত্যক্ষ–পরোক্ষ ও দৃশ্যমান–অদৃশ্যমান কোনো চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, কোনো ধর্মাবলম্বীকে যদি কেউ ব্যবহার করতে চায়, কোনো রাষ্ট্রকে ধর্মের মাধ্যমে গ্রাস করবে– বুঝতে হবে সে সৃষ্টিকর্তার বিরোধিতা করে, মানবতার বিরোধিতা করে এবং ধর্মের মূল মর্মবাদের বিরোধিতা করে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনীতির কোনো মার্কা দেবত্ব প্রদত্ত মার্কা নয়। রাজনৈতিক মার্কা রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক নেতা কোনো দেব-দেবী নয়। রাজনৈতিক নেতা–নেত্রীদের সমস্ত বক্তব্য জনগণের কল্যাণের জন্য। যতক্ষণ পর্যন্ত জনগণ তার কল্যাণ কর্মসূচি হিসেবে গ্রহণ করবে ততক্ষণ সেই দল, সেই মার্কা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য থাকবে। আর যখন থাকবে না তখন বর্জন করে দিতে হবে।
সম্মেলনের শুরুতে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধান অতিথি। পরে বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন তথ্য মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। আলোচনা সভার শুরুতে ৫ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।



