শুধু চীন নয়, তিস্তা মহাপরিকল্পনা যাচাইয়ে কারিগরি সহায়তা দেবে নেদারল্যান্ডসও। পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরি এ্যানি জানান, তিস্তার পাড়ে স্যাটেলাইট সিটিসহ বড় স্থাপনা তৈরির পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে সরকার। গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে নদী রক্ষণাবেক্ষণে। তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনুদান নিতেও আপত্তি নেই সরকারের।
বাংলাদেশের প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে, ২০১৬ সালে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করে চীন। আওয়ামী লীগ আমলে সই হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী কারিগরি সহায়তা ও ঋণ দেওয়ার কথা বেইজিংয়ের। প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা খরচ ধরে নেওয়া হয় তিস্তা রিভার কমপ্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টোরেশন মহাপরিকল্পনা। ৫ বছর মাঠ পর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করে পাওয়ার চায়না।
মহাপরিকল্পনার নকশা করা হয়েছে পূর্ব চীনের জিয়াংসু প্রদেশের সুকিয়ান সিটির আদলে। তিস্তার দুই পাড়ে পরিকল্পিত স্যাটেলাইট শহর, নদী খনন ও শাসন, ভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা, আধুনিক কৃষি সেচ ব্যবস্থা, মাছ চাষ প্রকল্প, পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। দাবি করা হয়, এতে ৭ থেকে ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
তবে আপাতত বড় স্বপ্ন থেকে সরে আসতে চাইছে বিএনপি সরকার।
পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘স্যাটেলাইট সিটিটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, আমার সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ওই এলাকার প্রায় দুই কোটি মানুষের জন্য নদী ভাঙন রোধ, পানিকে ধরে রাখা। ওই এলাকার মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি যেটি প্রয়োজন সেদিকে আমার নজর।’
মন্ত্রী বলেন, আপাতত শুষ্ক মৌসুমে নদীর অববাহিকায় পানি সংরক্ষণ, ড্রেজিং, বন্যা ও ভাঙন কমানোসহ রক্ষণাবেক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রকল্প যাচাই-বাছাইয়ে কারিগরি সহায়তা নেওয়া হবে বেশ কয়েকটি দেশ থেকে।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘চায়না একটা স্ট্যাডি করেছে, ওইটাকে আমি ফাইনাল স্ট্যাডি বলবো না। এটি আমাদের জন্য পূর্ণাঙ্গ নয়। এ জন্য আমাদের নেদারল্যান্ড সাপোর্ট করতে চেয়েছে, চায়না টেকনিক্যাল সাপোর্ট দিতে চেয়েছে আমাদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী। দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অনুযায়ী যদি আবার রি-অর্গানাইজ করে চুক্তি করতে হয় তখন চুক্তি করব।’
মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিজস্ব অর্থের পাশাপাশি, সহজ শর্তে ঋণ ও অনুদানেও আগ্রহ রয়েছে ঢাকার।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মেগা প্রজেক্টগুলো করতে গিয়ে বিভিন্ন দেশের ঋণ সহযোগিতা নিচ্ছি, গ্র্যান্ট নিচ্ছি। যেমন বিশ্ব ব্যাংক, এডিবি, জাইকা, চীন, নেদারল্যান্ড গ্র্যান্ট দিচ্ছে। অন্য কোনো দেশ কেউ যদি গ্র্যান্ট দিতে চায় তাহলে সেটিও নেব।’
তিনি আরও জানান, ৬ মাসের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষ করে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করতে চায় সরকার।



