ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলা ছাড়াও আওয়ামী লীগ আমলে অন্তত ২৫০ জনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুম করার প্রমাণ মিলেছে। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাদের কেউই আর ফিরে আসেনি। মঙ্গলবার দুপুরে নিখোঁজদের পরিবারের সাথে সাক্ষাতের সময় তিনি এ তথ্য দেন। এসময় মায়ের ডাকের সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম অভিযোগ করেন, তাদের দেওয়া ১৫০টি অভিযোগের একটিরও তদন্ত শেষ হয়নি।
গুমের অভিযোগ তদন্তের অগ্রগতি জানতে মঙ্গলবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে যান গুমের শিকার নিখোঁজ ৬০টি পরিবারের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ আমলে বিভিন্ন সময়ে তাদের স্বজনদের গুম করার পর এখনও খোঁজ মেলেনি।
এসময় তাদের সাথে ছিলেন মায়ের ডাকের সমন্বয়ক ও বিএনপির সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম। তার অভিযোগ, অন্তবর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পরই দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে গুমের অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু সেসময় একটি বিশেষ দল সংশ্লিষ্টদের গুমের বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংসদ সদস্য ও মায়ের ডাকের সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, দেড়শ'র মতো কেইস। কিছু কেইসে, আমরা বলব না যে (তদন্ত) অনেক দূর এগিয়েছে, কিছু দূর এগিয়েছে ইনভেসটিগেশন, কিন্তু এখনও পর্যন্ত পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি কোনো কেইসেই। আমাদের আশা ছিল, যখন বিচারকার্য শুরু হবে, সবার জন্য একসাথে হবে। এখানে কোনো সিলেকশন থাকবে না। সিলেকশন কেন ওই তিনটা কেইসে করা হয়েছিল, জামায়াতের তিনটা কেইসে।'
তবে চিফ প্রসিকিউটর জানান, দলমত নির্বিশেষে গুমের বিচারের জন্য এখন কাজ করছে তদন্ত দল। প্রায় আড়াইশ গুমের ঘটনা তদন্তে করছে বিশেষ তদন্ত দল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, 'যে আড়াইশ পরিবারের সদস্যরা গুমের শিকার হয়েছেন, তারা এখনও ফেরত আসেনি, এইটা আমরা নিশ্চিত হয়েছি...দ্বিতীয়ত, এরা যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক অপহরণের শিকার হয়েছেন, সেইটাও কিন্তু আমরা নিশ্চিত হয়েছি। সুমন, ইলিয়াস আলীসহ গুমের পরিবারের সদস্য যারা আছেন, আমরা একই মাপকাঠিতে বিচার করছি সবগুলো। আমরা সেখানে দলীয়ভাবে বিষয়টিকে দেখতে চাই না।'
চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, শিগগিরই বরগুনার পাথরঘাটার চরদুয়ানিতে গুমচর পরিদর্শনে যাবে তদন্ত দল।
তিনি বলেন, 'গুমচরে ইতোমধ্যে আমরা প্রোগ্রাম দিয়েছি, আমরা হয়তো কিছুদিনের মধ্যে সেই জায়গা পরিদর্শন করে আসব। সেখানে আমাদের কাছে রিপোর্ট আছে যে, অনেকগুলো মানুষকে ওখানে নিয়ে তারা পেট কেটে হত্যা করে তারা নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে।'
র্যাবের টিএফআই সেল ও ডিজিএফআই-এর জেআইসিতে গুমসহ এ সঙ্ক্রান্ত ৩টি মামলা বিচারাধীন।



