মানসম্পন্ন শিক্ষা-আমাদের অধিকার

শিক্ষকতা পেশাকে আরও মর্যাদাপূর্ণ ও আকর্ষণীয় করার দায়িত্বও সরকারের। এজন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, সম্মানজনক বেতন এবং উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে দেশের সেরা মেধাবীরাও শিক্ষকতা পেশায় আসতে আগ্রহী হবে। একজন দক্ষ শিক্ষকই একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ গড়ে দিতে পারেন।

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৪ এএম

বাংলাদেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার মান নিয়ে আমি দীর্ঘদিন ধরেই গভীরভাবে অসন্তুষ্ট। কারণ একটি শিশুর শিক্ষা ও ব্যক্তিত্বের প্রকৃত ভিত গড়ে ওঠে এই সময়টাতেই। জীবনের এই পর্যায়ে সে শুধু বইয়ের জ্ঞানই অর্জন করে না—বরং তার চিন্তাভাবনা, নৈতিকতা, ভাষা দক্ষতা এবং সামাজিক বোধ তৈরি হতে শুরু করে। অথচ বাস্তবতা হলো, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই স্তরটিই দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মাঝে ঘুরপাক খাচ্ছে।

স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত কত সরকার এসেছে, কত জ্ঞানী মন্ত্রী ও আমলা দায়িত্ব পালন করেছেন শিক্ষাকে শিক্ষণীয় করতে। কিন্তু প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় দূরদর্শী ও টেকসই উদ্যোগ খুব একটা চোখে পড়েনি। নীতিনির্ধারকদের আলোচনায় প্রায়ই দেখা যায় নানা প্রশাসনিক বা পদ্ধতিগত পরিবর্তনের বিষয়, কিন্তু শিক্ষার প্রকৃত মান উন্নয়নের প্রশ্নটি সব সময়ই আড়ালে থেকে যায়।

বর্তমান সরকারের কাছেও মানুষের প্রত্যাশা অনেক। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বড় একটি আলোচনা ঘুরপাক খাচ্ছে—কোমলমতি শিশুদের স্কুলে ভর্তি হবে পরীক্ষার মাধ্যমে, নাকি লটারির মাধ্যমে। প্রশ্ন হচ্ছে, ভর্তি পদ্ধতির এই পরিবর্তন কি শিক্ষার মান বাড়াতে পারে? একটি শিশুর প্রকৃত শিক্ষা নির্ভর করে তার শিক্ষক, শিক্ষার পরিবেশ, পাঠ্যক্রম এবং শেখার পদ্ধতির উপর। ভর্তি পদ্ধতি পরিবর্তন করে শিক্ষার মৌলিক সংকটের সমাধান করা সম্ভব নয়।

একইভাবে কোচিং সেন্টার বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েও বেশ আলোচনা চলছে। কিন্তু কোচিং সেন্টার কেন তৈরি হয়েছে—সেই মূল প্রশ্নটি কি আমরা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে ভেবেছি? যখন বিদ্যালয়ের পাঠদান শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন পূরণ করতে পারে না, তখনই অভিভাবকরা বিকল্প খুঁজতে বাধ্য হন। তাই কোচিং সেন্টার বন্ধ করাই যদি লক্ষ্য হয়, তবে কি সমস্যার মূল সমাধান হয়ে যাবে?

আমরা যদি সত্যিই একটি দক্ষ, সৃজনশীল এবং নৈতিক জাতি গড়ে তুলতে চাই, তাহলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার মান উন্নয়নের দিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ এই স্তরেই ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জ্ঞানের ভিত্তি তৈরি হয়।

প্রথমত, সব শিশুর জন্য সমান শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে সরকারকেই। শিক্ষা এমন একটি মৌলিক অধিকার, যেখানে ধনী-গরিব, শহর-গ্রাম বা সামাজিক অবস্থানের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য থাকা উচিত নয়।

দ্বিতীয়ত, শিক্ষকতা পেশাকে আরও মর্যাদাপূর্ণ ও আকর্ষণীয় করার দায়িত্বও সরকারের। এজন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, সম্মানজনক বেতন এবং উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে দেশের সেরা মেধাবীরাও শিক্ষকতা পেশায় আসতে আগ্রহী হবে। একজন দক্ষ শিক্ষকই একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ গড়ে দিতে পারেন।

তৃতীয়ত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে বেসরকারি স্কুল বা কিন্ডারগার্টেনের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমিয়ে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যেই মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

পাঠ্যক্রমেও প্রয়োজন যুগোপযোগী পরিবর্তন। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিশুদের নীতিনৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ শেখানোর পাশাপাশি মাতৃভাষা বাংলার দৃঢ় ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে। এর সঙ্গে একটি বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে ইংরেজি এবং একটি ঐচ্ছিক বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ রাখা যেতে পারে। এই ভাষা শিক্ষাই এক সময় তাকে অনেক এগিয়ে রাখবে। পাশাপাশি বাস্তবমুখী ও জীবনঘনিষ্ঠ শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি, যাতে শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষার জন্য নয়, বাস্তব জীবনে চলার জন্যও প্রস্তুত হতে পারে।

সবচেয়ে বড় কথা, শিক্ষা কখনোই পণ্য হতে পারে না। শিক্ষাকে ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতার বাজারে ছেড়ে দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়। বরং মানসম্মত, সমান ও মানবিক শিক্ষা নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। একটি সুস্থ, সচেতন ও উন্নত জাতি গড়ে তুলতে হলে শিক্ষার ভিতকে শক্ত করতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।

আমাদের দেশের অনেক ক্ষেত্রই ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছেছে। তাহলে শিক্ষাকে সেই মানে উন্নীত করতে কি সত্যিই আমাদের দেউলিয়া হয়ে যেতে হবে? আমি মনে করি, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে একন একটা বড় সুযোগ। তাই ইতিহাসের পাতায় সম্মানের সঙ্গে স্থান করে নেওয়ার সেই সুযোগটা কি নীতিনির্ধারকরা নেবেন? না কি প্রজন্ম ঘুরে নতুন নতুন প্রশ্নের মধ্যেই থাকবেন?

লেখক: কান্ট্রি এডিটর, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন

[এই মতামত লেখকের নিজস্ব। এর সঙ্গে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পাদকীয় নীতিমালার কোনো সম্পর্ক নেই।]

আমি একজন মধ্যমমানের ছাত্রী ছিলাম, যার কারণে স্যারকে নিয়ে আমার পড়াশোনা সংক্রান্ত স্মৃতি নেই, বলা যায়। আমি এবং আমার মতো অনেকেই এসএমআই (সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম) স্যারকে পেয়েছি কখনও বাবার মতো, কখনও বড় ভাই...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, এক মহীরুহ, যিনি কেবল বাংলা সাহিত্যের অঙ্গনে নয়, ভারতীয় দর্শন ও মননচিন্তার পরিসরে রেখে গেছেন শাশ্বত দীপ্তি। ২২ শ্রাবণ তাঁর শারীরিক প্রস্থান, কিন্তু চেতনায় তিনি আজও অপরিহার্য। তাঁর...
আমাদের ছেলে সূর্য সময় বিশ্বাস, দোতলার গ্রিল কাটা হলে বের হয়ে এসে সান শেডে অপেক্ষা করছে বন্ধুদের নিয়ে, সাদা শার্ট পরিহিত। সকল বন্ধুদের বের করে দিয়ে সবার শেষে সূর্য নিচে নামে। সূর্য নিজে আহত হয়েছে,...
শাসক শ্রেণি নিজেদের টার্গেট পূরণে বিশাল কর্মকাণ্ডের জাল বিস্তার করেছে। কিন্তু এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পূর্ণটাই পরিকল্পনাহীন। শাসক শ্রেণি স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে এ পর্যন্ত কোনোদিন ভেবেও দেখেনি দেশ ও...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার সব ধর্মেরই মূল উপজীব্য। মানবতার কল্যাণ সব ধর্মেরই অন্যতম মূল শিক্ষা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহম্মেদ বলেছেন, সংবিধান দেশের প্রতিটি নাগরিককে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম ও উৎসব পালনের শতভাগ অধিকার দিয়েছে। তাই ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালনে কোনো দুশ্চিন্তা বা শঙ্কার...
রক্তস্নাত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্রসংস্কারের যে অভূতপূর্ব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক দুষ্টচক্রের হাতে জিম্মি হয়ে...
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই দেশে প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
লোডিং...
পঠিত নির্বাচিত

এলাকার খবর