জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি নিয়ে গড়িমসি কেন– তা জানতে চেয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন।
পোস্টে সারজিস লিখেছেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নিতে এত গড়িমসি কেন? তাদেরকে আবার রাস্তায় নামতে হলো কেন? বছরের পর বছর ধরে পুরো দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাষ করা হয়েছে। অথচ ঢাকার বুকে দেশের প্রথম সারির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য কোন আবাসিক হল নেই। মেয়েদের জন্য নামমাত্র একটি আবাসিক হল আছে। একাডেমিক স্পেসও চাহিদার তুলনায় নেই বললেই চলে।’
জুলাই আন্দোলনের এ নেতা আরও লেখেন, ‘অথচ যেই সদরঘাট এলাকায় এই বিশ্ববিদ্যালয়টি অবস্থিত সেটি ঢাকার বসবাসের সবচেয়ে অনুপযোগী একটি জায়গা। সেখানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী কিভাবে থাকবে কিংবা থাকে এগুলো নিয়ে কি কারো মাথাব্যথা নাই?’
তিনদফা দাবি নিয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো কাকরাইল এলাকার সড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন জবির শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব রাজনৈতিক সংগঠনের প্লাটফর্ম জবি ঐক্য। তাদের দাবিগুলো হলো: আবাসন বৃত্তি কার্যকর, পূর্ণাঙ্গ বাজেট কাঠামোর অনুমোদন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা।
আন্দোলনকারীদের অবস্থানের কারণে ওই এলাকার সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় তৈরি হয়েছে যানজট।
সারজিস লিখেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের অনেক জায়গা এবং ভবন এতদিন ধরে দখল করেছিল আওয়ামী লীগের দখলদাররা। কিন্তু এখনো কেন তারা তাদের জায়গা কিংবা ভবনগুলো ফিরে পাচ্ছে না? কেন তাদের স্থায়ী ক্যাম্পাসের কাজ সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি দিয়ে দ্রুতগতির সাথে করা হচ্ছে না? কেন একনেকে এখনো সেই বিল পাস হচ্ছে না?’
এনসিপি নেতা সারজিস লিখেছেন, ‘শিক্ষার্থীরা তো বুকের তাজা রক্ত দিয়ে এই অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিল। তাদের জন্য আলাদা করে কি হলো? কোন সংস্কারটা করা হলো? কোন সুযোগ সুবিধাটা বাড়লো? জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌক্তিক দাবি গুলো অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হোক। নামকাওয়াস্তে নয় বরং বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপে প্রতীয়মান হোক।’


কাকরাইলেই আছেন জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা, দাবি আদায় হলে ছাড়বেন সড়ক
