জাতীয় পার্টির বিভক্তি এখন সুস্পষ্ট। বহিষ্কৃত নেতারা ডেকেছেন সম্মেলন, যা আইনিভাবে অবৈধ বলছে জি এম কাদেরপন্থীরা। আদালতের আদেশের ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি মূল দলের মহসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীর। আনিসুল-চুন্নু গ্রুপ বলছে, গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতেই নতুন সম্মেলন। রাজধানীর কাকরাইল ও গুলশানে আলাদা সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন দুই অংশের নেতারা।
গত ২৮ জুন হওয়ার কথা ছিল জাতীয় পার্টির সম্মেলন। তবে ১৬ জুন সম্মেলনের জন্য জায়গা না পাওয়ার কথা বলে তা স্থগিত করেন জি এম কাদের। এর বিরোধিতা করায় আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মুজিবুল হক চুন্নসহ সিনিয়র নেতাদের বহিষ্কার করেন কাদের। এরপর থেকেই আবারও দুই ভাগে বিভক্ত জাতীয় পার্টি।
বিষয়টি গড়ায় আদালত পর্যন্ত। গত ৩১ জুলাই চেয়ারম্যানের সাংগঠনিক কার্যক্রমের ওপর আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেয় আদালত। চেয়ারম্যান পদ ধরে রাখতেই সম্মেলন বাতিল করেন জি এম কাদের; এমন অভিযোগ আনিসুল-চুন্নুদের। তাই নতুন কমিটি গঠনে সম্মেলন ডেকেছে আনিসুল-চুন্নু গ্রুপ। যা আইনিভাবে অবৈধ বলছে, কাদের গ্রুপ।
জাতীয় পার্টির বহিষ্কৃত নেতা আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, ‘এটা স্পষ্ট যে আমরা সকলে স্বপদে বহাল আছি। শুধু এটাই নয়, উনি যে চেয়ারম্যান জি এম কাদের তাঁর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে বিধি নিষেধ রয়েছে।’
জাতীয় পার্টি মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘জাতীয় পার্টির কোনো মিটিংয়ে তারা অংশগ্রহণ করতে পারেন না। জাতীয় পার্টির কোনো মিটিং তারা ডাকতে পারেন না। কথাকথিত প্রেসিডিয়াম মিটিং হতে পারে না। কথাকথিত প্রেসিডিয়াম মিটিংয়ে তারা অংশগ্রহণ করতে পারেন না। কাউন্সিল ডাকার এখতিয়ার কোনো ভাবেই তাদের নাই।’
জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নিজেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দাবি করছেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। যদিও কাদেরপন্থীরা বলছেন, আদালত বহিষ্কৃত নেতাদের পদ ফিরিয়ে দেয়ার কোন আদেশ দেয়নি।
আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘যদি পদে কোনো সিনিয়র কোনো কো-চেয়ারম্যান থাকে তাহলে তিনি হবেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। এই হিসেবে আমি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।’
শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘চেয়ারম্যান পদ বাতিল করা হয়নি। চেয়ারম্যান পদ অবৈধ ঘোষণা করা হয়নি এবং যারা বহিষ্কৃত ছিলেন তাদের কোনো স্বপদে বহালের আদেশ দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ আইনের চোখে যারা বহিষ্কৃত হয়েছিল প্রাথমিক সদস্য পদ সহ অদ্যাবধি তারা এখনো বহিষ্কৃত আছেন।’
নির্বাচন প্রসঙ্গে কাদেরপন্থী গ্রুপ বলছে, এখন ভোটের পরিবেশ নেই, সরকার তা ফেরাতে পারলে অংশ নেবেন তারা। আর আনিসুলপন্থীরা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।



