কেরানীগঞ্জে গুলিবিদ্ধ বিএনপি নেতা হাসান মোল্লার মৃত্যুতে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ ঘটনাকে ‘সুদূরপ্রসারী মাস্টারপ্ল্যান’ বলে দাবি করেছেন। শনিবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি করেন।
গত বৃহস্পতিবার রাতে কেরানীগঞ্জের জগন্নাথপুর এলাকায় বাড়ি ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন হাসান মোল্লা। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার তাঁর মৃত্যু হয়।
বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গত ২২ জানুয়ারি দুষ্কৃতকারীদের গুলিতে গুরুতর আহত হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসান মোল্লার মৃত্যুতে তাঁর পরিবার-পরিজনদের প্রতি আমি গভীর শোক ও সহমর্মিতা জ্ঞাপন করছি। সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের নীতি ও আদর্শ এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী দর্শনে গভীরভাবে বিশ্বাসী হাসান মোল্লা গণতান্ত্রিক প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির যে ক্ষতি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী শক্তির একজন বলিষ্ঠ সৈনিক হওয়ার কারণেই হাসান মোল্লাকে টার্গেট করা হয়েছিল। যার ফলশ্রুতিতে দুষ্কৃতকারীরা দুদিন আগে তাঁকে গুলি করে এবং আজকে তাঁর মৃত্যু হয়। এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে দেশকে অস্থিতিশীল করার এটি নিঃসন্দেহে একটি সুদূরপ্রসারী মাস্টারপ্ল্যান।’
সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে তৎপরতা দেখাতে পারছে না বলেই খুন-জখমের মতো রক্তাক্ত পরিস্থিতির অবসান হচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের দমন করে রাষ্ট্র ও সমাজ থেকে ভয়ভীতি ও আতঙ্ক দূরীভূত করতে হবে। অন্যথায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে কি না, তা নিয়ে জনমনে শঙ্কা তৈরি হবে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তকারীরা বসে নেই, তারা ধারাবাহিকভাবে হিংস্র সহিংসতা চালিয়ে রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্য সাধন করতে চায়। কিন্তু সরকার চক্রান্তকারীদের উচ্ছেদ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে একের পর এক গণতন্ত্রমনা রাজনৈতিক নেতা হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন। তাই এ মুহূর্তে গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দুর্বৃত্তদের রুখে দিতে হবে।’



