কিছু জায়গায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা হলেও নির্বাচন সংঘাতের দিকে যাচ্ছে– এমনটা বলার সময় আসেনি বলে মনে করছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান। রোববার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘নির্বাচন সংঘাতের দিকে যাচ্ছে এটা বলার সময় আসেনি। কিছু জায়গায় অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটনা ঘটছে। এগুলো যাতে না ঘটে। সার্বিকভাবে নির্বাচনের পরিবেশ ভালো আছে। ভোটার তালিকায় ভুয়া ভোটার আছে কি না, সে বিষয়ে ইসিকে খোঁজ নিতে বলেছি।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘ভোটকে সামনে রেখে ভোটার তালিকায় অসঙ্গতি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বিকাশ নম্বর নেওয়ার ঘটনাসহ বেশ কিছু অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে। ভোটার তালিকায় ভুয়া ভোটার আছে কি না, সে বিষয়ে ইসিকে খোঁজ নিতে বলেছি।’
নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, ‘বিশেষ বিশেষ কিছু এলাকায় প্রচুর নতুন ভোটার হয়েছে। তারা স্থানান্তর হয়ে এসেছেন। এটি অস্বাভাবিক। ইসি এটি অস্বীকার করেছে। ইসির বক্তব্যে বিএনপি সন্তুষ্ট নয়। কিছু লোক, ভোটার আইডি, বিকাশ নম্বর নিয়েছে নির্বাচনী প্রচারণায়। তারাই এই ভুয়া ভোটার ও মাইগ্রেশনের সঙ্গে জড়িত।’
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভোটার স্থানান্তর হয়েছে। একই হোল্ডিং নম্বরে ২০/৩০ জন ভোটার থাকার তথ্য পেয়েছি। আসলে যেখানে ৪/৫ জনের বেশি লোক থাকার কথা নয়।’
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘১ বছরের বেশি সময়ে প্রচুর ভোটার স্থানান্তরিত হয়েছে। যেটা আগে কখনো হয়নি। ইসি খোঁজ নিয়ে বলছে, কোনো আসনে ২/৩ হাজারের বেশি হয়নি। ইসির তথ্যে আমরা খুশি হতে পারিনি। প্রকৃতপক্ষে আরও বেশি ভোটার স্থানান্তরিত হয়েছে। ইসির কাছ থেকে আসন ভিত্তিক ভোটার মাইগ্রেশন তথ্য চেয়েছে বিএনপি।’
ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিএনপি পরিপূর্ণভাবে সন্তুষ্ট নয় উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনের দিন শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার নামে শান্তি কমিটি গঠন করা হবে? ইসি বলেছে বিষয়টি তারা জানে না।’
নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, ‘নির্দিষ্ট কিছু দলের নেতা–কর্মীরা নিজেদের নির্বাচনী এলাকার বাইরে কাজ করছে। আইনে বাধা না থাকলেও নির্বাচনের ২ দিন আগে তারা যেন এলাকা ত্যাগ করে।’
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান বলেন, ‘৫৫ হাজার দেশীয় পর্যবেক্ষককে অনুমতি দিয়েছে ইসি। এদের অনেকেই খুব আনকোরা। দক্ষদের সুযোগ পাওয়া উচিত। ভোটকেন্দ্রে একসঙ্গে বেশি পর্যবেক্ষক যেয়ে যাতে ভোটদান কার্যক্রম বিঘ্নিত না করে।’
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘বিএনসিসির ছাত্রদের নির্বাচনী কাজে যুক্ত করার কথা শুনেছি প্রথমবারের মতো। এই তরুণ বয়সে তাদের সংসদ নির্বাচনের মতো জটিল রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা ঠিক হবে না। এতে তারা ও তাদের প্রতিষ্ঠান বিতর্কিত হবে। তাদের যাতে যুক্ত করা না হয়।’
এ প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেই নির্বাচন কাজে রাখা উচিত। সিইসি এই যৌক্তিকতা স্বীকার করে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন।’
অবাধ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য ইসি যেন আইনি ব্যবস্থা নেয় জানানো হয়েছে উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘ইসিতে অভিযোগ করলেও প্রতিকার পাওয়া যায় না। প্রতিটি এলাকায় ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি আছে বলছে ইসি। কিন্তু তারা যে দায়িত্ব পালন করছে সেটা দৃশ্যমান নয়।’
এ বিষয়ে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান বলেন, ‘ধর্মীয় বিশ্বাস, আবেগকে ব্যবহার করে একটি দল প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এটা আরপিওর স্পষ্ট লঙ্ঘন। এসব বিষয়ে যেন ইসি ব্যবস্থা নেয়।’



