সরকারে যেতে পারলে দেশের প্রতি জেলায় মেডিকেল কলেজ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার বিকেলে নাটোরে নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘১৮ কোটি মানুষের জন্য প্রত্যেক জেলায় মেডিকেল কলেজ গড়ে তুলব।’
আওয়ামী লীগকে ইঙ্গিত করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই বাংলাদেশ আমাদের সকলের প্রিয় জন্মভূমি। একটি দল কার্যক্রম নিষিদ্ধ হয়ে রাজনীতির ময়দানে নেই। তারা দীর্ঘদিন এই দেশের মানুষের ওপর জুলুম করেছেন। অত্যাচার করেছেন।’
এ প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘যারা জুলুম করে আল্লাহ তাদের হাত থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নেয়। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সেটাই হয়েছে। কিন্তু এর জন্য অনেকে তাদের রক্ত দিয়েছে।’
আওয়ামী লীগের পতন নিয়ে জামাত আমির বলেন, ‘১৫ জুলাই; যেদিন ছাত্রলীগের গুন্ডারা আমাদের মেয়েদের গায়ে হাত দিয়েছিল সেদিন সবাই এক হয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিল।’
জুলাই আন্দোলনের আলোচিত শহীদ আবু সাঈদ প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘রংপুরের আবু সাঈদ নিজের বুক পেতে গুলি খেয়েছিল। উত্তরবঙ্গের জনগণ তার জন্য গর্বিত।’
গুলিতে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি সম্পর্কে বলতে গিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘তারা তাদের জীবন দিয়ে আমাদের ওপর কাজের বোঝা চাপিয়ে গেছে।’
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরের সময়ের উল্লেখ করে ডা. শফিক বলেন, ‘আমরা ৬ তারিখ থেকে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, টেম্পুস্ট্যান্ড দখল করিনি।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘জামায়াত এখন মা–বোনদের ভরসার জায়গা। তারা নিরাপত্তা চায়। ইন–শা–আল্লাহ জামায়াত ক্ষমতায় আসলে তা নিশ্চিত করবে।’
যুবকদের বেকার ভাতার বদলে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে বলে উল্লেখ করেন জামায়াত আমির। বলেন, ‘যুব সমাজের হাতে বেকারভাতা তুলে দিয়ে তাদের অসম্মান করব না। তাদের হাতে কাজ তুলে দিয়ে বলব, নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোল।’
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘যুবকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ এবং সুযোগের অভাবে পিছিয়ে আছে। আমরা তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মক্ষম করে তুলব।’
‘যুব সমাজ পুরাতন বন্দোবস্তের পচা রাজনীতি দেখতে চায় না, তারা নতুন রাজনীতি ও নতুন বাংলাদেশ দেখতে চায়।’ যোগ করেন শফিকুর রহমান।
সমাবেশে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা সরকার গঠন করলে ব্যাংক লুটেরাদের পেটের ভেতর থেকে হাত ঢুকিয়ে টাকা বের করে আনব।’



