আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই বিএনপি সরকার গঠন করবে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটা বিএনপির সরকার। বিএনপির যাবতীয় উদ্দেশ্য, নির্বাচনি ইশতেহার ও ঘোষণাপত্র—সবই বাস্তবায়ন করা হবে।’ এ সময় তিনি জামায়াতে ইসলামীকে ‘উগ্রবাদী’ শক্তি আখ্যা দিয়ে তাদের উত্থানের জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের দমন-পীড়নের কারণেই দেশে এমন শক্তির উদ্ভব হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠনের পথে রয়েছে বিএনপি। এ পর্যন্ত ২৯৫টি আসনে পাওয়া বেসরকারি ফলাফলে ২১০টি আসনে জয় পেয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। এ ছাড়া ৭৭টিতে জয় পেয়েছে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থীরা। অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন ৯টি আসনে।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬—দুটি আসন থেকেই বিজয়ী হয়েছেন। বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল জামায়াতের আমির ড. শফিকুর রহমান জয় পেয়েছেন ঢাকা-১৫ আসনে। হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে আরও জয় পেয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (ঠাকুরগাঁও-১), মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, এনসিপির নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আবদুল্লাহ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা।
এদিকে আলোচিতদের মধ্যে পরাজিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও শিশির মনির এবং এনসিপির সারজিস আলম। ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারাও পরাজিত হয়েছেন। ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাস পরাজিত করেছেন এনসিপির নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারীকে। ঢাকা-১৩ আসনে হেরেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মামুনুল হক। চট্টগ্রাম-১১ আসনে জিতেছেন বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পটুয়াখালী-৩ আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপি জোটের প্রার্থী নুরুল হক নূর।
অন্যান্য আসনের মধ্যে কক্সবাজার-১ আসনে বিএনপির সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াতের হামিদুর রহমান আজাদ এগিয়ে আছেন। কুমিল্লা-১ আসনে এগিয়ে আছেন সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই কেন্দ্রে কেন্দ্রে গণনা শুরু হয়। তবে নির্বাচন কমিশন থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক চূড়ান্ত ফল ঘোষণা সম্পন্ন হয়নি।



