সংবিধান সংশোধনে দ্রুত ১৫ থেকে ২০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি। আনুপাতিকহারে সকল দলের সমন্বয়ে সেই কমিটি হবে বলেও জানান তিনি। তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদকে এড়িয়ে এমন কমিটিতে না থাকার কথা জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কালক্ষেপণের জন্যই সরকারি দল নতুন নতুন প্রস্তাব আনছেন বলে অভিযোগ তাদের।
জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে মঙ্গলবার সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে বিরোধীদল এতে সম্মত না হওয়ার বিষয়টি সেদিনই স্পষ্ট করে।
প্রস্তাবিত কমিটি নিয়ে পর্যালোচনা করতে বুধবার বৈঠকে বসেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায়না বলেই নতুন এই কমিটির প্রস্তাব, অভিযোগ তাদের। এমন প্রস্তাবে বিরোধীদল রাজি নয় বলেও জানান তারা।
এ প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান জানান, সংবিধানে সংশোধন করা হয় ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে। সেক্ষেত্রে যে মৌলিক সংস্কারের বিষয়গুলোর কথা বলা হচ্ছে সেগুলো ঢুকাতে পারছেন না। তার মানে, ইন ইফেক্ট (কার্যত), প্রকারান্তরে আপনারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবেন না সেদিকেই যাচ্ছেন।
বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, 'সংবিধানে এখনও তারা হাত দেন নাই। কিন্তু হাত দেওয়ার আগে তারা পরিবর্তনগুলো আগেই করে ফেলেছেন। পরিবর্তনগুলো তারা আগে করেছেন কারণ অতটুকুই তাদের দলীয় নীতির সঙ্গে যায়। যতটুকু তাদের দলীয় নীতির সঙ্গে যায় ততটুকু তারা মানবেন, আর যতটুকু তাদের দলীয় নীতির সঙ্গে যায় না- যেটা তাদের ক্ষমতার কাঠামোকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলতে পারে- অর্থাৎ, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে যদি একটি নতুন বডি'র মাধ্যমে নিয়োগ হয়, সেক্ষেত্রে বিএনপি'র বা প্রধানমন্ত্রীর একক কর্তৃত্ব থাকবে না, এই ভয়ে তারা সেটা মানতে চান না।'
সরকারের চিফ হুইপ জানান, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ভিত্তি দিতে সব দলের অংশগ্রহণে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করতে চান তারা। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ কমিটি গঠন করা হবে।
এ প্রসঙ্গে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, 'দেশকে নিউ ডিমেনশনে, নিউ ডিরেকশনে (নতুন দিকে) নিতে চাই, এবং আমরা সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই, প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দিতে চাই। আমাদের সংবিধান সংশোধন ছাড়া কোনো গত্যন্তরই নাই। (উনারা) থাকবেন না, এটাতো আবদার করার কোনো যুক্তির মধ্যেই পড়ে না। উনারা থাকবেন সেটাই আমরা প্রত্যাশা করি, এবং ফাইনালি উনারা থাকবেনও, আমি আশা করি।'
এদিকে, সংসদ সদস্যদের আবাসন বরাদ্দে তৃতীয় দিন বৈঠক করেছে সংসদীয় কমিটি। দ্রুতই আবাসন বরাদ্দের কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ।



